নির্বাচনে টাকা বহনের সীমা নিয়ে যা জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক । রাজনীতি । বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢাকা: নির্বাচনকালীন সময়ে নগদ অর্থ বহনের সীমা নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও কৌতুহল তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বড় অঙ্কের টাকা উদ্ধার এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য ঘিরে এই বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে টাকা বহনের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, স্বাভাবিক সময়ে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে তাদের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা কার্যকর হবে।
একের পর এক টাকা উদ্ধারের ঘটনা
নির্বাচনের আগের দিন বুধবার নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক হন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন।
একই রাতে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নির্বাচনি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দেয়—নির্বাচনে আদৌ কত টাকা বহন করা বৈধ?
ইসি সচিবের বক্তব্য ঘিরে বিভ্রান্তি
এরই মধ্যে একটি গণমাধ্যমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়,
“বৈধ উৎস দেখাতে পারলে ভোটের সময় টাকা বহনে নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। প্রয়োজনে ৫ কোটি টাকা বহনেও সমস্যা নেই।”
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।
বক্তব্য প্রত্যাহার করেন ইসি সচিব
বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ নিজেই বিষয়টি পরিষ্কার করেন।
তিনি বলেন,
“আমাকে কোট করে ফাইন্যান্সিয়াল একটি ইস্যুতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, আমি নাকি বলেছি পাঁচ কোটি টাকা বহন করা যাবে। এটি বলার এখতিয়ার, অধিকার বা ক্ষমতা আমার নেই। আমি এমন কথা বলিনি।”
তার এই বক্তব্যের পরও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি পুরোপুরি কাটেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের স্পষ্ট ব্যাখ্যা
এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করতে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন,
“স্বাভাবিক সময়ে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো সীমারেখা নির্ধারণ করা নেই।”
তিনি আরও বলেন,
“তবে নির্বাচনকালীন সময়ে যদি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কোনো নির্দেশনা বা বিধিনিষেধ থাকে, তাহলে সেটিই প্রযোজ্য হবে।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নির্বাচনকালীন নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতেই।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে,
- টাকা বহনের উদ্দেশ্য
- উৎসের বৈধতা
- নির্বাচনি ব্যয়ের সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য
এই বিষয়গুলো যাচাই করেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কেন নজরদারি বাড়ানো হয়েছে?
নির্বাচন ঘিরে অবৈধ অর্থ ব্যবহার, ভোট কেনাবেচা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এড়াতেই নগদ অর্থ বহনের ওপর কড়াকড়ি নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা বহনের ক্ষেত্রে সন্দেহ তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের জন্য বার্তা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ নাগরিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন হলে—
- বৈধ উৎসের প্রমাণ
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা
মেনে চলা জরুরি।
নির্বাচনে টাকা বহনের কোনো সার্বজনীন সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করেনি। তবে নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাই চূড়ান্ত।
এই বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য বা অপব্যাখ্যার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।