নগরায়ণ উপেক্ষিত: ১৬ সংস্কার কমিশনে নেই নগর বিশেষজ্ঞ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৬টি সংস্কার কমিশনে নগরায়ণ বা নগর সংস্কার সংক্রান্ত কোনো পৃথক কমিশন গঠন করা হয়নি। স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদ বা বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না করায় বিশেষজ্ঞ মহলে হতাশা বিরাজ করছে।
নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ড. নজরুল ইসলাম বলেছেন, “নগরায়ণ এবং পরিকল্পিত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাংলাদেশে এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার কমিশনে নগর পরিকল্পনাবিদ যুক্ত করে ‘স্থানীয় সরকার ও নগর সংস্কার কমিশন’ নামকরণ করা হলে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে।”
স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেছেন, “নগর সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত না করা সংস্কারের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ প্রায় ৬০০টি নগর অঞ্চলে ৪০% মানুষ বসবাস করলেও পরিকল্পিত নগরায়ণ ব্যবস্থা নেই। স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও জাতীয় ভৌত পরিকল্পনা প্রণয়ন না হওয়ায় বিশৃঙ্খল উন্নয়ন চলছে।
স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, “আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চল নগরায়ণের আওতায় আসবে। এজন্য স্থানীয় সরকারকে ঢেলে সাজাতে হবে এবং শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”
তবে নগর পরিকল্পনাবিদদের অন্তর্ভুক্ত না করার কারণ সম্পর্কে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান মনে করেন, “সরকার চাইলে নগর ইস্যুতে স্বতন্ত্র সংস্কার কমিশন গঠন করতে পারত। অন্তত স্থানীয় সরকার কমিশনে নগর বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি ছিল।”
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য নগরায়ণ সংক্রান্ত সুপারিশে বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এর অভাবে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খল উন্নয়ন চলমান থাকবে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।