আন্দোলনে পুলিশকে গুলির নির্দেশনা রাজনৈতিক নেতাদের: এইচআরডব্লিউ - দিগন্ত জার্নাল

আন্দোলনে পুলিশকে গুলির নির্দেশনা রাজনৈতিক নেতাদের: এইচআরডব্লিউ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশি বর্বরতায় রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। তাদের প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই-আগস্টে পুলিশ কর্তৃক অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ মূলত রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এসেছে, না যে পুলিশ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই রিপোর্টের মাধ্যমে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ৫০ পাতার রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে, গত বছরের আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা এবং তাতে রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “আফটার দ্য মনসুন রেভোলিউশন: এ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে পুলিশ কর্তৃক অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আন্দোলনের সময় পুলিশ কর্মকর্তারা যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেয়েছিলেন, তখন রাজনৈতিক নেতারা তাদের নির্দেশনা দিয়ে বলতেন, “নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী অপরাধীদের রেহাই না দেওয়ার জন্য, সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করুন।” এমনকি, কিছু পুলিশ কর্মকর্তা লাইভ সিসিটিভি ফুটেজে দেখেছেন, যেখানে তাদেরকে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল যেন তারা ভিডিও গেমে গুলি করছেন।

এই রিপোর্টে উঠে আসে আরও এক হৃদয়বিদারক ঘটনা, যেখানে ১৮ বছর বয়সী আমির হোসেনকে পুলিশ ধরা পরার পর নির্মাণাধীন একটি বিল্ডিং থেকে লাফ দিতে বাধ্য করে। আমির হোসেন জানান, পুলিশ যখন তাকে ধাওয়া করে তখন তিনি এক ভবনে উঠে গিয়ে বিল্ডিং থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু পুলিশ তাকে গুলি করে। তিনি বলেন, “তারা আমাকে গুলি করেছে এবং আমি তিনতলায় ঝুলছিলাম।” শেষ পর্যন্ত আমির হোসেন লাফ দেওয়ার পর তার পা ভেঙে যায়।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার বক্তব্যে জানা যায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য ঐ সময় শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা ‘গুলি করো’ এমন স্পষ্ট নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার মধ্যে আরও বলা হয়েছিল, যেকোনো পরিস্থিতিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ অনুযায়ী কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

an adbox will go here