সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট, বিপুল সম্পদ জব্দ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশ দেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে দুদক। অভিযোগে বলা হয়, ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তারা।
অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও জব্দ
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ও ৩ এপ্রিল ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ ও ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে দুটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদনে তার বিপুল সম্পদের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর ১৮ এপ্রিল দুদকের এক সভায় অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়।
অনুসন্ধানে ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি বিও হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২৩ মে আদালত বেনজীরের ৮৩টি দলিলভুক্ত ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি ও ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন। ২৬ মে আরও ১১৯টি জমির দলিল, ২৩টি কোম্পানির শেয়ার ও গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ আসে। সবমিলিয়ে ৬২৭ বিঘা জমি ক্রোক করা হয়েছে এবং এসব সম্পত্তির দেখভালের জন্য রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দেশত্যাগ ও তদন্তে অনুপস্থিতি
এপ্রিলে অনুসন্ধান শুরুর পর মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বেনজীর পরিবারসহ দেশত্যাগ করেন। দুদক তাদের ২৮ মে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দফায় তলব করলেও তারা উপস্থিত হননি।
পরে, ২০২৪ সালের ২ জুলাই তাদের সম্পদ বিবরণী চেয়ে পৃথক নোটিশ পাঠানো হয়। আগস্টের মাঝামাঝি আইনজীবীর মাধ্যমে পরিবারের চার সদস্যের সম্পদ বিবরণী জমা দেন বেনজীর।
বেনজীরের অতীত ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন। এর আগে, তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও এর সাতজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, যার মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন।
সাবেক উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ সামনে আসছে। আদালতের রেড অ্যালার্ট জারির মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও কঠোর হলো। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার অবস্থান কীভাবে প্রতিফলিত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর উদ্যোগ নেয়।