আলোকিত জ্ঞানীদের বইমেলা: আদর্শ থেকে কত দূরে? - দিগন্ত জার্নাল

আলোকিত জ্ঞানীদের বইমেলা: আদর্শ থেকে কত দূরে?

নিজস্ব প্রতিবেদক । দিগন্ত জার্নাল

একুশের বইমেলা কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়, বরং একটি জাতির জ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতিফলন। বইমেলার জন্ম হয়েছিল একটি জ্ঞানভিত্তিক আলোকিত সমাজ গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা ও জন-আকাঙ্ক্ষা থেকে। বইয়ের কোনো বিকল্প নেই জ্ঞান অনুশীলনে ও জীবনবোধ অর্জনে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বইমেলার মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থেকে আমরা অনেক দূরে সরে এসেছি। মেলাটি এখন আলোড়িত হলেও আলোকিত হতে পারছে না। এটি এখন উৎসবের চেয়ে বিনোদন ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

প্রতিবছর বইমেলায় হাজার হাজার বই প্রকাশিত হয়, বিক্রিও হয় কোটি কোটি টাকার, কিন্তু বেশির ভাগ বই মানহীন ও নিম্নরুচির। জনপ্রিয়তা বাড়ানোর নামে অনেক লেখক চটকদার ও ভিত্তিহীন বিষয় নিয়ে বই লিখছেন। ফলে প্রকৃত পাঠকদের কাছে বইমেলার গুরুত্ব কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দলীয় আনুগত্যই বড় হয়ে উঠছে, যা মেলার মূল লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অযোগ্য ব্যক্তিদের জায়গা দিচ্ছে, এতে প্রকৃত লেখক ও প্রকাশকরা পিছিয়ে পড়ছেন।

যদি প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গের বইমেলার দিকে তাকাই, সেখানে বিদ্যায়তনিক পরিবেশ রক্ষা করা হয়। দলীয় রাজনীতির পান্ডারা সেখানে স্থান পান না। কিন্তু আমাদের বইমেলায় তারা প্রভাব বিস্তার করছে, সাধারণ জ্ঞানপিপাসু পাঠক অপাঙ্ক্তেয় হয়ে পড়ছেন। এতে বইমেলার প্রকৃত পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে।

বইয়ের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পাঠক বই কিনতে পারেন না। এই সমস্যা সমাধানে বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, নজরুল ইনস্টিটিউট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনাগুলোকে সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে বইয়ের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে। এতে বই বিক্রি যেমন বাড়বে, তেমনই পাঠের অভ্যাসও গড়ে উঠবে।

একটি দেশকে উন্নত করতে হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হবে। বই পড়ার প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়াতে হলে মানসম্মত বই প্রকাশ নিশ্চিত করতে হবে এবং বইমেলাকে প্রকৃত জ্ঞানের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বই হোক জীবন গঠনের হাতিয়ার, আর বইমেলা হোক সত্যিকারের আলোকিত সমাজ নির্মাণের বাতিঘর।

an adbox will go here