প্রাথমিক উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কারে সুপারিশ, স্থায়ী শিক্ষা কমিশনের প্রস্তাব
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কারের লক্ষ্যে শতাধিক প্রধান ও আনুষঙ্গিক সুপারিশ দিয়েছে এ সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি। সোমবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।
প্রতিবেদনে প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মানসম্মত বিদ্যালয় শিক্ষা পরিকল্পনা ও স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রাথমিকসহ শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে ‘শিক্ষা পরামর্শক পরিষদ’ (Education Consultative Council) গঠন করা যেতে পারে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী শিক্ষা কমিশনে রূপান্তরিত হতে পারে।
শিক্ষকদের বেতন কাঠামো ও পদোন্নতি
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী—
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘সহকারী শিক্ষক’ পদ বিলুপ্ত করে দ্বাদশ গ্রেডে ‘শিক্ষক’ হিসেবে বেতন নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করা এবং পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাংলা ও গণিত শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—
বাংলা ও গণিত শুধু দুটি বিষয় নয়, বরং শিক্ষার ভিত্তি। বাংলা ভাষা শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ের প্রতি প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে, আর গণিতে দুর্বলতা থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্রমাগত পিছিয়ে পড়বে।
প্রতিদিন বাংলা ও গণিত বিষয়ে ৬০-৭৫ মিনিট করে পাঠদানের সময় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সব বিদ্যালয়কে এক শিফটে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, যা পিইডিপি-৫ (প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি)-তে অন্তত ৫০% বিদ্যালয়ে এবং দশ বছরের মধ্যে সব বিদ্যালয়ে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত অনূর্ধ্ব ১:৩০ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পিছিয়ে পড়া শিশুদের সহায়তায় স্থানীয় পর্যায়ে ‘প্যারা-টিচার’ (শিক্ষা-সহায়ক) নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা বাতিল করে ‘ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ (NSA) মডেলের মূল্যায়ন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বিদ্যালয়কে মান অনুযায়ী সবুজ-হলুদ-লাল ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেন।
অতিরিক্ত সুবিধা ও শিক্ষার্থীদের সহায়তা
যত দ্রুত সম্ভব মিড-ডে-মিল চালু করার সুপারিশ করা হয়েছে।
খাতা, কলম, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
অতি দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে বর্ধিত হারে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধে হটলাইন চালুর প্রস্তাব
প্রতিবেদনে শিক্ষা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি বিশেষ হটলাইন চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি, অসদাচরণ ও কর্তব্যে অবহেলা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।
প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময় প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সংস্কার পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক ড. মনজুর আহমদসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।