বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিল বিএনপি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বিনিয়োগ-বাণিজ্যে স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি। সোমবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের সময় দলটির প্রতিনিধি দল এ চিঠি হস্তান্তর করে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চার পৃষ্ঠার চিঠিতে বলা হয়েছে, “দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য আওয়ামী লীগ নানা ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রতিবেশী একটি দেশের সহায়তায় শেখ হাসিনা তার ফ্যাসিবাদী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।” চিঠিতে আরও বলা হয়, “গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে বিচারের আওতায় আনা দরকার।”
বিএনপির মতে, চলমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছয় মাসেও পলাতক স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং অনেকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে উৎসাহিত হচ্ছে, যা দেশের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
চিঠিতে বিএনপি দাবি করেছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। বাজার ব্যবস্থায় নৈরাজ্য বিরাজ করছে, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। এসব কারণে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বর্তমানে বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে ‘মব কালচার’ সৃষ্টি হয়েছে, যা জনদুর্ভোগ, সড়কে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়িয়ে তুলছে। এতে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে।” বিএনপির দাবি, দেশে একধরনের ‘সামাজিক নৈরাজ্য’ বিস্তার লাভ করছে, যা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
বিএনপি চিঠিতে বলেছে, “দেশের চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হলে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” দলটি মনে করে, নির্বাচনের আয়োজন করাই এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ম্যান্ডেট হওয়া উচিত।
চিঠিতে বলা হয়, “জুলাই ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে জনগণের হারানো ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার করা জরুরি। এজন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
চিঠির শেষ অংশে বিএনপি জানিয়েছে, “বিদ্যমান ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যই দেশের গণতন্ত্র রক্ষার মূল চালিকাশক্তি। এই ঐক্য বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।” দলটি মনে করে, সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে দেশের পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়বে এবং রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।
বিএনপির চিঠির মূল বার্তা হলো, সরকার যেন দ্রুত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। দলটি মনে করে, এর মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ চিঠির বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।