বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাতের সম্ভাবনা - দিগন্ত জার্নাল

বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাতের সম্ভাবনা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

আগামী ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) এর ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে ঢাকায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ডিক্যাব) সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় জানান,

“থাইল্যান্ডে বিমসটেক সামিটে সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। তবে তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে কি না, তা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।”

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলোও জানিয়েছে যে সম্মেলনের ফাঁকে ড. ইউনূস ও মোদির মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হবে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়।

এর আগেও সাক্ষাতের সম্ভাবনা ছিল, কিন্তু হয়নি

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বিমসটেক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। তখনও ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের সম্ভাবনা ছিল।

পরবর্তীতে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে তাদের দেখা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তখনও সেটি সম্ভব হয়নি। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, দুই নেতা একই সময়ে নিউইয়র্কে উপস্থিত না থাকায় বৈঠক হয়নি।

বিমসটেকের ভূমিকা ও বাংলাদেশ

বিমসটেক মূলত বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার উন্নয়নে কাজ করে।

বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে বলেন,

“বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না, বরং আঞ্চলিক সংযোগ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সহায়তা করে।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিমসটেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে সংস্থাটিকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে, এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যথাযথ সহযোগিতা দিচ্ছে।

সাক্ষাৎ হলে কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে?

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎ হয়, তবে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও বিনিয়োগ ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ-ভারত অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলোচনার বিষয়বস্তু হতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, ৪ এপ্রিল বিমসটেক সম্মেলনে তাদের সাক্ষাৎ শেষ পর্যন্ত হয় কি না, এবং হলে কী বিষয়ে আলোচনা হয়।

an adbox will go here