মসলা ও শুকনা ফলের চোরাচালান: চিহ্নিত ১৭ চোরাকারবারি ও প্রতিরোধের সুপারিশ - দিগন্ত জার্নাল

মসলা ও শুকনা ফলের চোরাচালান: চিহ্নিত ১৭ চোরাকারবারি ও প্রতিরোধের সুপারিশ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বাংলাদেশে মসলা ও শুকনা ফলের চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগজনক মাত্রায় রয়েছে, যা সরকারের রাজস্ব ক্ষতি এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের বিপাকে ফেলছে। সম্প্রতি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) একটি গোপনীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এ চোরাচালানে জড়িত ১৭ জন চোরাকারবারি চিহ্নিত হয়েছে, যারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আন্ডার ইনভয়েসিং, ওজনে কারচুপি এবং সীমান্ত পাড়ি দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে লাগেজ সুবিধায় পণ্য আনছে। এতে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, আর ব্যবসায়ীরা বৈধ পথে আমদানি করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না।

এসব মসলা ও শুকনা ফল মূলত আখাউড়া, ছাগলনাইয়া, চৌদ্দগ্রাম, হালুয়াঘাট, বগুড়া, সাতক্ষীরা ও খুলনা সীমান্ত দিয়ে আসে। শুল্ক ফাঁকির কৌশল হিসেবে আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে ৩০ টন মালামাল আনলেও বিল অব এন্ট্রিতে ২৫ টন উল্লেখ করেন এবং বাকি ৫ টন শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করেন। স্থলবন্দরে ওজনে কারচুপির ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক, যেখানে এফরেইজিং বিভাগ টাকা-পয়সার বিনিময়ে কম ওজন দেখিয়ে পণ্য ছাড়িয়ে নেয়। কিছু বন্দরে স্বয়ংক্রিয় ওজন ব্যবস্থা চালু হলেও, চোরাকারবারিরা কাস্টমস কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঁতাত করে অতিরিক্ত প্যাকেজিং সুবিধা নেয়, ফলে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়।

ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বাজারে মসলা ও শুকনা ফলের বার্ষিক চাহিদা ১ লাখ ২৪ হাজার টন, অথচ গত অর্থবছরে বৈধভাবে আমদানি হয়েছে মাত্র ৬৮ হাজার টন। ফলে ৫৬ হাজার টন চোরাচালানের মাধ্যমে প্রবেশ করেছে, যার খুচরা মূল্য প্রায় ৪,৮৪৬ কোটি টাকা। আমদানিতে প্রতি কেজিতে জিরার শুল্ক-কর ২৫১ টাকা, দারুচিনিতে ১২২ টাকা, এলাচিতে ৫৩৫ টাকা, লবঙ্গে ২৮৫ টাকা, কিশমিশে ২৮৯ টাকা, কাঠবাদামে ৩১০ টাকা, পেস্তাবাদামে ৬১৯ টাকা, আলুবোখারায় ১৫৪ টাকা, কাজুবাদামে ৪৪৫ টাকা দিতে হয়। কিন্তু চোরাচালানের মাধ্যমে এসব শুল্ক এড়িয়ে পণ্য বাজারে আসছে, যা বৈধ আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতায় টিকতে দিচ্ছে না।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চোরাচালান প্রতিরোধে ৮টি সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মসলার আমদানি শুল্ক যৌক্তিক করা, আন্ডার ইনভয়েসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সীমান্তে বিজিবির টহল বৃদ্ধি, স্থলবন্দরগুলোর ওজন ব্যবস্থাপনায় অটোমেশন চালু করা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, স্থানীয় জনগণকে চোরাচালান প্রতিরোধ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বাজারে মসলার সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখা।

সরকার যদি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে রাজস্ব ক্ষতি বাড়ার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। চোরাচালান বন্ধে শুল্ক কাঠামো সংশোধন, সীমান্ত নজরদারি বৃদ্ধি ও দুর্নীতিবাজ কাস্টমস কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

an adbox will go here