তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপির আন্দোলন
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ উঠলেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ কেউ বিচলিত হয়ে পড়েন’। ১৮ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিএনপির ঘোষিত ৪৮ ঘণ্টার আন্দোলনের শেষ দিনে এক ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হলে অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে হবে’।
তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরবঙ্গের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত’। তিনি আরও জানান, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর দেরি সহ্য করা হবে না’। সরকার যদি জনগণের ন্যায্য দাবিকে উপেক্ষা করে, তবে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ দিন, ৪৮ ঘণ্টার লাগাতার কর্মসূচির শেষ দিনে, তিস্তা নদীর তীরে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপির নেতাকর্মী, কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনকারীরা ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন বীর বিক্রম, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী, বলেন, ‘তিস্তা নদীর যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় কৃষকরা পানির জন্য হাহাকার করছে, নদীভাঙনে হাজারো পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে’। তিনি অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার দাবি জানান এবং বলেন, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানি না থাকলেও, বিএনপির এই কর্মসূচি ভারত সরকারকে পানি দিতে বাধ্য করেছে।
কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং বর্ষায় বন্যার কবলে জমি ও বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’। তারা এই অবস্থা থেকে মুক্তি চেয়ে দাবি জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মামুন তিস্তা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।