বৈষম্যের বিরুদ্ধে জামায়াতের হুঁশিয়ারি: রাজনীতির নতুন মোড় - দিগন্ত জার্নাল

বৈষম্যের বিরুদ্ধে জামায়াতের হুঁশিয়ারি: রাজনীতির নতুন মোড়

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বৈষম্য ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, আর এই বাস্তবতায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে কোনো বৈষম্য বরদাশত করা হবে না। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি বলেন, “আমাদের দলীয় নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নেতাদের বন্দি রাখা হয়েছে, কিন্তু আমরা থেমে থাকব না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই বৈষম্যের অবসান না হবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।”

জামায়াতের প্রধান দাবি দলীয় নিবন্ধন পুনর্বহাল এবং আটক নেতাদের মুক্তি। দলটি মনে করে, তাদের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে এবং এটা একটি পরিকল্পিত দমন-পীড়ন। শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আমাদের নিবন্ধন কেন আটকে রাখা হয়েছে? এটি তো আগের সরকার জুলুম করে কেড়ে নিয়েছিল। নতুন সরকারও কি আমাদের প্রতি একই আচরণ করবে?”

সমাবেশের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির দাবি। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কারাগারে বন্দি। জামায়াতের নেতারা মনে করেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। জামায়াত আমির বলেন, “আমরা ১৩ বছর সহ্য করেছি, আর ১৩ মিনিটও অপেক্ষা নয়। আজহারকে মুক্তি দিন।”

বিক্ষোভ সমাবেশকে ঘিরে পল্টন, বায়তুল মোকাররম, নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল, প্রেস ক্লাবসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। পরে মিছিলটি জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়।

শফিকুর রহমান দৃঢ়ভাবে বলেন, “আমরা ভদ্র, কিন্তু আমরা বোকা নই। আমাদের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমাদের নেতারা জীবন দিয়েছেন, কিন্তু আপস করেননি। আমরা সেই বীরদের উত্তরসূরি।”

এই সমাবেশ ও হুঁশিয়ারি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন করে মাঠে নামতে প্রস্তুত। সরকার যদি তাদের দাবিগুলো উপেক্ষা করে, তাহলে সামনে আরও বড় আন্দোলন দেখা যেতে পারে, যা দেশের রাজনীতিকে নতুন মোড় দিতে পারে।

an adbox will go here