ছাত্রদলের পেশিশক্তির উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ড. মির্জা গালিব
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ছাত্রদলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্জা গালিব। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকার সময় ছাত্রদল যদি কোনো কার্যকর আন্দোলন করতে না পারে, তাহলে বিএনপির জন্য তাদের পেশিশক্তির কার্যকারিতা কী?
বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, গত ১৫ বছরে ছাত্রদল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন কোনো বড় আন্দোলন করতে পারেনি, যা সরকারকে চাপে ফেলতে সক্ষম হতো। তাহলে বিরোধী দলে থাকাকালীন এই সংগঠনের পেশিশক্তি বিএনপির কী কাজে আসছে?
তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনাও বেশি। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদলের পেশিশক্তি প্রদর্শন রাজনৈতিকভাবে লাভজনক নয়, বরং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।
ছাত্রদলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিএনপির জন্য নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সরকার পরিচালনায় দক্ষতা দেখানো এবং নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব তৈরি করা। পুরনো আমলের পেশিশক্তিনির্ভর ছাত্রদল দিয়ে এই কাজ সম্ভব নয়।
তিনি পরামর্শ দেন, বিএনপির উচিত ছাত্রদলকে নির্বাচনি প্রচারণায় কাজে লাগানো, বিশেষ করে অনলাইনে দলীয় ৩১ দফার প্রচার কার্যক্রমে। এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের গঠনমূলক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে নেতৃত্বের বিকাশ ঘটবে।
তিনি আরও লেখেন, পেশিশক্তি দেখিয়ে ক্যাম্পাসে টিকে থাকা সম্ভব নয়, যা ছাত্রলীগের বর্তমান পরিস্থিতিই প্রমাণ করে। আওয়ামী লীগের শাসনামলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি-সেক্রেটারির রুম পুড়েছে, যা দেখায় যে পেশিশক্তির দিন শেষ। বিএনপি ও ছাত্রদল যদি সময়োপযোগী পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।