ডিসি সম্মেলন শেষে ১২ দফা নির্দেশনা, দুর্নীতি ও বাজার সিন্ডিকেট দমনে কঠোর বার্তা - দিগন্ত জার্নাল

ডিসি সম্মেলন শেষে ১২ দফা নির্দেশনা, দুর্নীতি ও বাজার সিন্ডিকেট দমনে কঠোর বার্তা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

তিন দিনের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শেষে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা নিয়ে মাঠে ফিরেছেন ডিসিরা। সরকারি নীতিনির্ধারকরা তাদের আইন ও বিবেক খাটিয়ে প্রভাবমুক্ত থেকে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ এখন থেকেই শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারও রক্তচক্ষুর কাছে নতি স্বীকার না করে, নির্ভয়ে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিসিদের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কালোবাজারি, মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেট খুঁজে বের করতে তৎপর হতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ রক্ষা, প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, বিদ্যুৎ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি, শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ এবং চিকিৎসাসেবায় হয়রানি বন্ধের দিকেও নজর দিতে বলা হয়েছে।

নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি

দেশে এখনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। গত বছর ৫ আগস্টের ঘটনার পর পুলিশের প্রায় ৬ হাজার অস্ত্র লুট হয়, যার মধ্যে ৪ হাজার ৬০০টি উদ্ধার করা গেলেও ১ হাজার ৪০০ অস্ত্র ও আড়াই লাখ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় ডিসিদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় বাড়তি নজরদারি করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে যৌথ বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডিসিদের উদ্দেশে বলেছেন, “আমরা একটা যুদ্ধ করছি, এটি হচ্ছে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার যুদ্ধ। আপনারা আমাদের সহযোদ্ধা। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।”

রমজানে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা

আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্য সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকার ফেয়ার প্রাইস, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করবে। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে বিনামূল্যে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। এসব কার্যক্রম যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে ডিসিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। কালোবাজারি, মজুতদার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এসব তৎপরতার মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। তাই এসব অনিয়ম কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

শিক্ষা ও কৃষিক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধের কড়া নির্দেশ

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে। ভর্তি বাণিজ্য, অভিভাবক কমিটি নিয়ে দলাদলি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানার বাইরে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অনিয়ম কঠোরভাবে বন্ধ করতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের যথাসময়ে সার, বীজ ও সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

দুর্নীতি দমন: দেশের এক নম্বর সমস্যা মোকাবেলায় কঠোর বার্তা

প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, দুর্নীতির কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং এটি সহ্য করা হবে না। তাই সব ধরনের দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বাইরে পর্যন্ত দুর্নীতির প্রভাব পড়ছে, যা আর চলতে দেওয়া যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

ডিসি সম্মেলনের ৩৪টি পৃথক কর্ম-অধিবেশনে উপস্থাপিত ৩৫৪টি প্রস্তাবের বিস্তারিত আলোচনা হয়। নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে সুশাসনের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

an adbox will go here