বিডিআর বিদ্রোহ: ভারতীয় হুমকির তথ্য কীভাবে প্রকাশ্যে এলো?
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহের সময় ভারত হুমকি দিয়েছিল যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পিলখানায় অভিযান চালালে ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা করবে— এমন চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে। ভারতীয় বিশ্লেষক অবিনাশ পালিয়াল তার বইয়ে এই তথ্য উল্লেখ করেছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি এই তথ্য কোথা থেকে পেয়েছিলেন?
দুইটি সূত্র: এক বাংলাদেশি, এক ভারতীয়
অবিনাশ পালিয়ালের বই অনুযায়ী, এই তথ্য এসেছে দুটি সূত্র থেকে—
✔️ বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন (বর্তমানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা)
✔️ একজন উর্ধ্বতন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তা
তবে, তৌহিদ হোসেন কেন এই তথ্য অবিনাশ পালিয়ালকে দিয়েছিলেন? এটি নিয়ে বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন। তার কাছে এই তথ্য কার মাধ্যমে পৌঁছেছিল? সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা।
তৌহিদ হোসেনকে সাক্ষ্য দিতে ডাকতে পারেন ফজলুর রহমান
সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলুর রহমান কয়েকদিন ধরে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি বিডিআর বিদ্রোহের সময় ভারত সত্যিই বাংলাদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা করেছিল, তাহলে এটি একটি বড় কূটনৈতিক ইস্যু।
ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে তৌহিদ হোসেনকে সাক্ষ্য দিতে ডাকা হতে পারে। কারণ, তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব থাকাকালে এই তথ্য জানতেন এবং এটি ভারতীয় গবেষককে জানিয়েছিলেন।
প্রেক্ষাপট ও বিতর্ক
২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর সদর দফতরে সংঘটিত বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। বিদ্রোহ দমন নিয়ে তখন নানা আলোচনা চলছিল। ভারতীয় গণমাধ্যম তখন দাবি করেছিল, পিলখানায় সেনা অভিযান হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী সীমান্তে সতর্ক ছিল।
বর্তমানে, অবিনাশ পালিয়ালের বইয়ে এই দাবি উঠে আসার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের এক উচ্চপদস্থ কূটনীতিক কেন এই তথ্য ভারতের গবেষকের সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।
[সূত্র: পিনাকী ভট্টাচার্যের ফেসবুক পেজ]
— দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে।