বিআরআইসিএমে দুর্নীতির অভিযোগ: মালা খানের বিরুদ্ধে ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - দিগন্ত জার্নাল

বিআরআইসিএমে দুর্নীতির অভিযোগ: মালা খানের বিরুদ্ধে ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

বিজ্ঞানী ও সাবেক মহাপরিচালক মালা খানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ, দুদক ও তদন্ত কমিটি গঠন

বাংলাদেশ রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্টস (বিআরআইসিএম)-এ ২০১৮-২০২৪ সালে বিভিন্ন ধরনের বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, রাসায়নিক, আসবাবপত্র, এবং অন্যান্য সেবা ক্রয়ে প্রায় ২৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এই দুর্নীতির ঘটনায়, প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালক মালা খান এবং তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

দুদক তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান করে মালা খানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, তদন্তের মাধ্যমে মালা খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে এবং এই তদন্তের প্রতিবেদন শীঘ্রই দাখিল করা হবে।

বিআরআইসিএম-এর প্রায় ৯০% সায়েন্টিস্ট, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা জানিয়েছেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটির সাবেক মহাপরিচালক মালা খান এবং তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা প্রতিষ্ঠানটির টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দরপত্র প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে জালিয়াতি করা হয়েছে।

দুর্নীতির মূল অভিযোগ
২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিআরআইসিএমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং রাসায়নিক ক্রয়ের মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে, ‘কেমিক্যাল মেট্রোলজি অবকাঠামো সমৃদ্ধকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পে মালা খান প্রায় ৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, রাসায়নিক ক্রয়ের সময় প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্র কেনায় প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কোভিড মহামারির সময়ে, বিআরআইসিএম ২২ লাখ পিস ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া (ভিটিএম) তৈরি করে, যার জন্য ৩০ কোটি ৩০ লাখ টাকার কাঁচামাল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে, নথিপত্র অনুযায়ী, কাঁচামালের প্রকৃত দাম ছিল ১৫ কোটি টাকা বেশি। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদের সঙ্গে যোগসাজশ
অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে যে, মালা খান তার পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির জন্য সুবিধা প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ‘দ্য নেক্সট ফিউচার’ এবং ‘সাস করপোরেশন’ নামক প্রতিষ্ঠানগুলো অন্যতম। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে মালা খান দরপত্র পাইয়ে দিয়েছেন এবং তার মাধ্যমে ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মালা খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি প্রায়ই নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ পাইয়ে দেন এবং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ করেন। কিছু ঠিকাদার যেমন, সিকদার এন্টারপ্রাইজের মালিকও জানিয়েছেন যে, তিনি মালা খানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতেন এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে পেমেন্টের জন্য দীর্ঘদিন ধরেও অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।

বিআরআইসিএমে আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য দুর্নীতির চিত্র
তদন্তে পাওয়া গেছে যে, বিআরআইসিএম-এর অধীনে অনেক প্রকল্পের পরিমাণ ও খরচ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে দুর্নীতি করা যায়। সাড়ে ৮ কোটি টাকা, রাসায়নিক ক্রয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ক্রয়ে ২ কোটি টাকা এবং করোনাকালীন সময়ে ১৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ দেখানো হয়েছে। মালা খান এর আগে প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা এবং ঠিকাদারের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন এবং এসব দুর্নীতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত চলমান, মালা খানের দাবি
মালা খান বর্তমানে এই সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বিআরআইসিএম-এর প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী। অনেক সময় কিছু প্রকল্পের ক্ষেত্রে কমিটি থাকে এবং তারা কাজ করে। আমি নিশ্চিত কোনো অনিয়ম হয়নি।” তবে তিনি জানান, দুদক ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং তদন্ত শেষ হলে সঠিক তথ্য সামনে আসবে।

বিআরআইসিএম-এর বেশ কিছু কর্মকর্তা জানান, মালা খান এবং তার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই সময়কালে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এসেছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হতে পারে।

বিআরআইসিএম-এ গত কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া দুর্নীতি ও অনিয়মের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষদের এই ঘটনার বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দুদক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি দ্রুত এই ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: দৈনিক যুগান্তর

an adbox will go here