ব্যাংক খাতের দুরবস্থা: সাবেক তিন গভর্নরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ - দিগন্ত জার্নাল

ব্যাংক খাতের দুরবস্থা: সাবেক তিন গভর্নরের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী-লীগের ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সময় দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নজিরবিহীন লুটপাট ও টাকা পাচারের কারণে অর্থনীতিতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা সাবেক তিন গভর্নর—ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদারের নীতিগত ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এসব অনিয়ম ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাদের বিচারের দাবিও উঠেছে।

আতিউরের সময় শুরু হয় অনিয়ম
২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত গভর্নরের দায়িত্ব পালন করা ড. আতিউর রহমানের আমলে হলমার্ক, বেসিক ব্যাংকসহ বিভিন্ন কেলেঙ্কারির সূত্রপাত হয়। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে দেওয়া ঋণ খেলাপিদের জন্য নীতিমালা শিথিল করা হয়। আইটি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় রিজার্ভ চুরির ঘটনাও ঘটে।

ফজলে কবিরের সময়ে ব্যাংক দখল
২০১৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত গভর্নর ছিলেন ফজলে কবির। তার সময়ে ইসলামী ব্যাংকসহ ১০টি ব্যাংক দখল হয় এবং খেলাপি ঋণ প্রথমবারের মতো লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক দখলের বৈধতা দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

রউফের সময় নজিরবিহীন টাকা ছাপানো
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা আব্দুর রউফ তালুকদারের সময়ে অর্থনীতি চরম সংকটে পড়ে। ব্যাংক লুটপাট, ঋণ নবায়ন ও ডাউন পেমেন্ট কমানোর নীতির কারণে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বাড়ে। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়া হয়, যা মূল্যস্ফীতি ও ডলার সংকটকে চরমে পৌঁছে দেয়।

অর্থনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞের জবাবদিহির দাবি
বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক তিন গভর্নরের দায়িত্বহীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ব্যাংক খাত দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাংক লুটপাট ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

an adbox will go here