বিদেশে ৪০ হাজার কোটি টাকা পাচারের শঙ্কা, মূল্য বেড়েছে টিকিটের
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
আকাশপথে টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের এভিয়েশন খাতে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো ফ্লাইট কমিয়ে আনার ফলে যাত্রীদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার কারণে টিকিটের দাম হুহু করে বাড়ছে। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে আকাশপথের বিভিন্ন খরচ যেমন ল্যান্ডিং, পার্কিং, নিরাপত্তা এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের খরচও টিকিটের ওপর প্রভাব ফেলছে, যার কারণে ভাড়া আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ট্রাভেল এজেন্টরা এখন গ্রুপ টিকিটের জন্য বিদেশি ট্রাভেল এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করছে। এতে পুরো টাকা হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় একটি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে আকাশপথে ৪০ হাজার কোটি টাকার টিকিট ব্যবসার পুরো অর্থই বিদেশে পাচারের শঙ্কা রয়েছে।
এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকিটের দাম বৃদ্ধি হঠাৎ করে ঘটেনি, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে কিছু কারসাজি। উচ্চ ভ্রমণ কর, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ এবং ল্যান্ডিং ও পার্কিং চার্জসহ ডলার সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এছাড়া, মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি জারি করা নতুন পরিপত্রের ফলে ভাড়া নিয়েও অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো বিমান সংস্থা টিকিট বুকিংয়ের পর তিন দিনের মধ্যে তা যাত্রীর নামে ইস্যু করতে বাধ্য। অন্যথায়, স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিট বাতিল হয়ে যাবে।
এয়ারলাইন্সগুলো সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ, কারণ এই নতুন নীতির ফলে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছে। তারা দাবি করছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ আটকে রয়েছে, যার ফলে তারা টাকা দেশে আনার পরিবর্তে টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলস্বরূপ, কিছু বিদেশী এয়ারলাইন্স ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। ঢাকা এবং চট্টগ্রাম থেকে মোট ৪৫টি ফ্লাইট কমানো হয়েছে, যার ফলে প্রতি সপ্তাহে ৯ হাজার আসনের ক্যাপাসিটি কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিপত্রের কারণে স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্টদের ব্যবসা বিদেশি অনলাইন এবং ট্রাভেল এজেন্সির হাতে চলে যাচ্ছে। এর ফলে পুরো টিকিট বিক্রির ব্যবসার অর্থ পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এটি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিকভাবে এই সিদ্ধান্তটি সিভিল এভিয়েশন আইন লঙ্ঘন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন এয়ারলাইন্স মালিকদের সংগঠন ‘বোর্ড অব এয়ারলাইন রিপ্রেজেন্টেটিভস বাংলাদেশ’ (বার)। তারা মন্ত্রণালয়ের এই পরিপত্র বাতিল করার দাবি জানিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিপত্রের কারণে দেশের বিমান পরিবহন খাতের টেকসই উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে, বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি তাদের নিজস্ব দেশের হ্যান্ডে নিচ্ছে এবং স্থানীয় বাজারে তাদের প্রভাব আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এছাড়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকায় একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হওয়ায়, বিদেশি এয়ারলাইন্সদের জন্য খরচ অনেক বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ভাড়ার উপর প্রভাব পড়ছে এবং যাত্রীদের জন্য টিকিটের দাম বাড়ছে।
সবশেষে, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে আকাশপথের টিকিট ব্যবসা থেকে যে ৪০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে, তা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় সংকট হয়ে দাঁড়াবে।