আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নেতৃত্বের সংকট নিয়ে পার্থর মন্তব্য
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী কায়দায় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। হাসিনা এবং তার বড় বড় দল-নেতারা দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়। আর অনেক নেতাকর্মী দেশ-বিদেশে পালিয়ে বা আত্মগোপনে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে দলটির ভবিষ্যত নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
সম্প্রতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, এবং সেই সময় থেকেই দলটির পতন শুরু হয়েছিল। তবে আজকের আওয়ামী লীগের পতন আরও গভীর, কারণ দলটি আজ কোনো কার্যকর কুড়ে ঘরও পায়নি, যা অন্য রাজনৈতিক দলগুলি তাদের পতনের পর পেয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নির্ভর করবে নেতৃত্বের পরিবর্তনের ওপর। একসময় বলা হতো শেখ হাসিনার বিকল্প নেই, কিন্তু এখন দলের ভেতরেও এমন চিন্তা হচ্ছে যে তাঁকে বাদ দেয়া যেতে পারে।
পার্থ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগে নেতৃত্বের পরিবর্তন অসম্ভব, কারণ দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এখনো একই রয়েছে, এবং তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়নি। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ আসলে নিজেদেরকে নিষিদ্ধ করতে চাইছে, কারণ তাদের আর নির্বাচনে অংশগ্রহণের ইচ্ছা নেই, তারা শুধু বিশ্বজুড়ে কান্না করতে চায়।
আওয়ামী লীগের অবস্থা এবং রাজনীতি
পার্থ উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থায় তাদের চোর, দুর্নীতিবাজ, হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের মধ্যে সততা এবং রাজনৈতিক আদর্শের অভাব রয়েছে। তারা এখন অঢেল অর্থের মালিক, আর তাদের সন্তানরা বিদেশে বসবাস করছে। এমন নেতারা কি আর বাংলাদেশের জন্য কাজ করবেন?
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ এবং যুবলীগ এখন রাজপথে আন্দোলন করার জন্য প্রস্তুত নয়। তাদের অনেকেই ক্ষমতায় থাকার সময় এসব কার্যকলাপ দেখে এসেছে, আর এখন তারা রাজনীতির পদ্ধতিও বুঝতে পারছে না। ১৯৭৫ সালের পর, শেখ হাসিনা যখন দেশে ফেরেন, তার পাশে ছিলেন কিছু নেতৃবৃন্দ, কিন্তু বর্তমানে দলের মধ্যে এমন কোনো নেতা নেই।
আওয়ামী লীগের সামনে কঠিন ভবিষ্যত
পার্থ মনে করেন, আওয়ামী লীগের জন্য সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, যদি শেখ হাসিনা ফেরার পর কনফিডেন্স নিয়ে ফিরে আসেন, তবুও পরিস্থিতি বদলাবে না, কারণ আওয়ামী লীগের প্রতি আগের মতো জনসমর্থন নেই। তবে যদি দলটির মধ্যে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারে।
আওয়ামী লীগের ভুল রাজনীতি
আওয়ামী লীগ ড. ইউনূস এবং ছাত্রদেরকে ‘জঙ্গি’ এবং গণঅভ্যুত্থানকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যা তাদের ভুল রাজনীতির দিকেই ইঙ্গিত দেয়। পার্থ বলেন, দলটি যদি মনে করে যে প্রধানমন্ত্রিত্ব কেবল বিদেশি কোনো দেশে যাবে, তবে তারা ভুল পথে হাঁটছে। আওয়ামী লীগকে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে, তবে সে প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।