ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন? প্রস্তুত হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক । দিগন্ত জার্নাল
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত পরিবর্তন আসছে। প্রকাশ্যে ভিন্ন বক্তব্য আসলেও, পর্দার আড়ালে জোরকদমে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যেই হতে পারে। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দীন বলেছেন, ডিসেম্বরে নির্বাচন ধরে নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতি
নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ১২ দলীয় জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ অন্যান্য দল ও জোট নির্বাচনী ময়দানে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে।
নতুন রাজনৈতিক শক্তি জুলাই-আগস্ট আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটি তারুণ্যনির্ভর সংগঠন হিসেবে তৃণমূলে শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
নির্বাচনের রোডম্যাপ
নির্বাচনী রোডম্যাপ অনুযায়ী, অক্টোবরে তফসিল ঘোষণা, ডিসেম্বরে ভোট এবং জানুয়ারিতে সরকার গঠনের পরিকল্পনা চলছে। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৮ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করতে সরকারকে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, “দেশ পরিচালিত হবে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই দেশ পরিচালনা করবে—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি ঐতিহাসিক প্রয়োজনে দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে তিনি নির্বাচনের পথে যাচ্ছেন।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “আমাদের লক্ষ্য সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করা ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দল বিস্তৃত করা। এর পর আমরা নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেব।”
নির্বাচনের ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধান উপদেষ্টা ও সিইসি ডিসেম্বরে নির্বাচনের ইঙ্গিত দেওয়ায় নির্বাচন পেছানোর সম্ভাবনা কম। তবে ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ ও বাস্তবায়নযোগ্যতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেছিলেন, “অল্প সংস্কার করে নির্বাচন চাইলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব।”
রাজনীতির এই নতুন দৃশ্যপট কীভাবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহের ওপর।