পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী কওমী শিক্ষার্থীদের ভিসা-সংকট: প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক
দিগন্ত জার্নাল প্রতিবেদন:
বাংলাদেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোর বহু শিক্ষার্থী ইসলামী শরীয়াহ, উলূমুল হাদীস এবং অন্যান্য উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার জন্য পাকিস্তানের প্রখ্যাত মাদ্রাসাগুলোতে ভর্তি হতে আগ্রহী। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এতদিন এ সুযোগ সীমিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল। তবে বাস্তবে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিসা সংকট।
পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী কওমী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা স্টাডি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ করেও ভিসা পাচ্ছেন না। পাকিস্তানের বিভিন্ন স্বীকৃত মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) এবং অ্যাডমিশন লেটার পাওয়ার পরও তাদের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমদ মারুফ এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট, বিজনেস ও স্টাডি ভিসা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উচ্চশিক্ষার জন্য ট্যুরিস্ট ভিসায় পাকিস্তানে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ইমিগ্রেশন জটিলতায় ফেলে হয়রানি করা হচ্ছে, এমনকি অনেকে বাধ্য হয়ে ফিরে আসছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী—
স্টাডি ভিসা প্রদান করা হচ্ছে না: পাকিস্তানের হাইকমিশন কওমী শিক্ষার্থীদের স্টাডি ভিসার আবেদন গ্রহণ করলেও তা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখছে।
ট্যুরিস্ট ভিসার মাধ্যমে যাত্রা করেও হয়রানি: যেসব শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে ট্যুরিস্ট ভিসায় পাকিস্তানে গেছেন, তারা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অনেকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যয়বহুল যাত্রাপথ: ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় শিক্ষার্থীদের বেশি খরচ করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।
বৈষম্যমূলক আচরণ: সাধারণ শিক্ষাব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা সহজেই স্টাডি ভিসা পেলেও কওমী ঘরানার শিক্ষার্থীদের জন্য এ প্রক্রিয়া জটিল করে রাখা হয়েছে।
যেখানে সংবাদপত্রে বিনামূল্যে স্টাডি ভিসা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে, বাস্তবে সেখানে নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করেও শিক্ষার্থীরা ভিসা পাচ্ছেন না। বরং পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের আচরণে অবহেলা ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, “আমাদের অপরাধ কী? আমরা কি শুধুমাত্র কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছি?”
এই জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানি হাইকমিশনকে তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে কওমী শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের কওমী শিক্ষার্থীরা ইসলামী জ্ঞান অর্জনের জন্য পাকিস্তানে যেতে চাইলেও ভিসা সংক্রান্ত হয়রানি তাদের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। অবিলম্বে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এ সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
- দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে