জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও গুম-খুন নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের অনুসন্ধান - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও গুম-খুন নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের অনুসন্ধান

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক রাইট টু ফ্রিডমের প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বাংলাদেশে সংঘটিত জুলাই-আগস্টের গণহত্যা, গত ১৫ বছরে গুম-খুনের ঘটনা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

তাজুল ইসলাম জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি. মাইলাম ও সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ড্যানি লোভিসের নেতৃত্বে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতি, বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুনের প্রকোপ এবং ট্রাইব্যুনালের বিচার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন। তারা জানতে চান, এই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, মার্কিন প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বাংলাদেশের আইনি ব্যবস্থার সক্ষমতা ও পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তারা বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত। প্রতিনিধিদলের মতে, বাংলাদেশ সরকারের উচিত এ ধরনের অপরাধের সঠিক ও কার্যকর বিচার করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আর না ঘটে।

পুলিশের পিঠে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করার ঘটনায় তদন্ত

এদিকে, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে গত ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে বিক্ষোভকারী হত্যার ঘটনায় জড়িত পুলিশ কনস্টেবল আকরাম হোসেনকে আগামী ১১ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, আকরাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ট্রাইব্যুনালের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাঁচজন পুলিশ সদস্যকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে, যারা এ ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। মামলার তদন্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্ট গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে পুলিশের কয়েকজন সদস্য এক বিক্ষোভকারীকে ধরে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে। এরপর তাকে রাস্তার মাঝে দাঁড় করিয়ে পেছন থেকে গুলি করা হয় এবং পরে লাশ টেনে গলির ভেতরে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের স্বজনরা এখনও জানেন না তার লাশ কোথায় রাখা হয়েছে।

তাজুল ইসলাম জানান, এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

an adbox will go here