ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র - দিগন্ত জার্নাল

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি, জুলুম ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভ্যুত্থানের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং জেলার একেএম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডেপুটি জেলার তানজিল হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, জান্নাত, ইউসুফ, সার্জেন্ট ইনস্ট্রাক্টর আমিনুল ইসলাম, সুবেদার সাইফুল ও আতাউরসহ আরও অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা ফ্যাসিবাদ সরকারের ভিআইপি বন্দিদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে টাকার বিনিময়ে তাদের আয়েশি জীবনযাপনের সুযোগ দিচ্ছেন। বন্দিদের দেওয়া হচ্ছে পছন্দের খাবার, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। সালমান এফ রহমান ও জাফর উল্লাহদের কাছ থেকে ইতিপূর্বে আইফোন ও মিনি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

কারাগারের ক্যান্টিনেও চলছে সীমাহীন দুর্নীতি। বাজারমূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। ২৫০ টাকার সিগারেট বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়, ৫০ টাকার কলা ৮০ টাকায়, পোলট্রি মুরগির রান্না করা এক পিস মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। এই অর্থ সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অবৈধ সুবিধা না দিলে বন্দিদের ওপর নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি নাইম চৌকিদারের ভাইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ডে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। নাইম জানান, গলায় টিউমার মারাত্মক আকার ধারণ করলেও চিকিৎসার জন্য অনুরোধ করায় তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। জেলার ও ডেপুটি জেলার নেতৃত্বে কয়েকজন তার চোখ বেঁধে পিটিয়েছে, গলায় চাপ দিয়ে ধরে রেখেছে, ফলে তিনি এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসার আবেদন করলেও টাকার অভাবে চিকিৎসা না দিয়ে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের শিউলি খাতুন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী গুরুতর অসুস্থ হলেও তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে না, বরং টাকার বিনিময়ে সুযোগ-সুবিধা কেনার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে।

কারাগারের ভেতরে বন্দিদের তল্লাশি করে নগদ টাকা, টিভি, রাইস কুকার, ওভেন, হিটার, ঘড়ি ও সাউন্ড বক্সসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার হলেও সেগুলো জমা না দিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা ভাগ করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলার একেএম মাসুম। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ডিআইজি (প্রিজন) জাহাঙ্গীর কবিরও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলো কারাগারে চলমান অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্যাতনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারাগারের পরিস্থিতি স্বচ্ছ করতে হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

an adbox will go here