গণপরিষদ নির্বাচন: রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের সূচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক । দিগন্ত জার্নাল
রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে গণপরিষদের নির্বাচন। এর আগে কিছু নেতার পক্ষ থেকে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি উত্থাপিত হলেও তা তেমন গুরুত্ব পায়নি। তবে সম্প্রতি ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দিনে এই নির্বাচন দাবী করেছে, যা রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। এনসিপি বলছে, গণপরিষদ নির্বাচন নতুন সংবিধান প্রণয়নের জন্য জরুরি। তবে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি এনসিপির দাবির বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দিচ্ছে।
এনসিপির এই দাবির পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন মতামত প্রদান করেছে। যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়, তখন একধরনের ঐক্য দেখা গিয়েছিল, তবে এখন দলগুলো নিজেদের কৌশল নিয়ে এগিয়ে আসছে। বিএনপি দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দাবি করে আসছে, জামায়াতের মত মতে সংস্কার শেষে নির্বাচনের পক্ষ নিয়েছে। অন্যদিকে, এনসিপি গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, যা বিএনপি নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে।
এনসিপি দাবি করে, গণপরিষদ নির্বাচন মানে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছানো নয়, বরং এটি একই সময়ে হতে পারে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল আসলাম আদিব জানান, তারা চান গণপরিষদ নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংবিধান পরিবর্তন ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের ম্যান্ডেট পান।
তবে এই দাবির মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি নির্বাচন পেছানোর উদ্দেশ্যে এনসিপি এই দাবি করেছে? বিএনপি এবং জামায়াতের মত, স্থানীয় নির্বাচনগুলো আগে হওয়া দরকার। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমানে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নেই, যা উন্নয়ন ব্যাহত করছে। এই কারণে তিনি স্থানীয় নির্বাচন আগে করার কথা বলেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করা হয়, তবে জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের মতে, স্থানীয় নির্বাচন করতে গেলে কমপক্ষে একবছর সময় প্রয়োজন এবং এর পরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, আগামী ডিসেম্বরে বা পরবর্তী জুনে কোন নির্বাচন হবে এবং এই নির্বাচনী পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দেওয়া হবে।