একটি মহল ও একটি নতুন দল নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে:আমিনুল হক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, “সংস্কার এবং স্বৈরাচারের বিচারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।” তিনি বলেন, “একটি গোষ্ঠী, একটি মহল ও একটি নতুন দল সংস্কার এবং স্বৈরাচারের দোসরদের বিচার না করা পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করছে।”
শনিবার মিরপুর এমডিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে পল্লবী-রূপনগর থানার শহীদ গুম পরিবারের সদস্য, ওলামা, শিক্ষক সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল হক আরও বলেন, “আমরাও দেশে পরিপূর্ণ সংস্কার চাই এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনাসহ তার দোসরদের বিচার চাই। কিন্তু স্বৈরাচারের বিচার প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৬ মাস হতে চলেছে, কিন্তু এখনো পর্যন্ত সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, দেশে কোনো স্থিতিশীল অবস্থা তৈরি হয়নি।” তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচন দিন, যাতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের সরকারই পারবে দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে এবং স্বৈরাচারের বিচার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার করতে।”
তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরেও আমরা জনগণের কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। স্বাধীনতার মূলমন্ত্র, স্তম্ভ, ঘোষণাপত্র কিছুই আজ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিটি ক্লাবের সভাপতি তারিক আল মামুন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন পল্লবী থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক কামাল হোসাইন খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোকছেদুর রহমান আবির।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এ বি এম এ রাজ্জাক (দপ্তর), আলী আহমেদ রাজু, শেখ হাবিবুর রহমান হাবিব, পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি হাজী নূর সালাম, বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তি মো. নজরুল ইসলাম, রূপনগর আবাসিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম মোল্লা, স্কুলের শিক্ষক খালেকুজ্জামান জুয়েল ও মো. সায়েম।
এছাড়া গুমের শিকার পল্লবী থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর আলম, তারিকুল ইসলাম তারা এবং বৈষম্য আন্দোলনে শহীদ শাকিল, লিটন হাসান, মকবুল হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রাসেল, আসিব ইকবাল ও আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শায়খুল হাদিস মাওলানা আশিকুর রহমান কাসেমী।