জুলাই বিপ্লবে সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের সতর্ক করা নিয়ে সেনাবাহিনীর ব্যাখ্যা - দিগন্ত জার্নাল

জুলাই বিপ্লবে সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের সতর্ক করা নিয়ে সেনাবাহিনীর ব্যাখ্যা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক

২০২৪ সালে জুলাই-আগস্টে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর তীব্রতর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যদিয়ে সংগঠিত হয় জুলাই বিপ্লব। এ সময় সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পক্ষ নিয়ে ছাত্র জনতার উপর দমন-পীড়ন না করতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে সতর্ক করা হয়েছিলো মন্তব্য করেছেন। এ বিষয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী মানবাধিকারের গুরুত্ব যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে এবং গঠনমূলক সমালোচনাকে গুরুত্ব দেয়। তবে, উক্ত মন্তব্যের কিছু অংশ বিভ্রান্তিকর এবং স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো বার্তা বা নির্দেশনা তারা পায়নি। যদি কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তবে তা তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হতে পারে, সেনাবাহিনীকে নয়।

সেনাবাহিনী আরও জানায়, তারা সবসময় জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে চলে এবং আইন ও মানবাধিকার নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে, ভলকার তুর্কের মন্তব্য কিছু মহল ভুলভাবে উপস্থাপন করছে, যা সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সেনাবাহিনী অতীতেও গণতন্ত্র রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়ও তারা জনগণের পাশে ছিল। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ও নির্ভুলভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গত ২৩ বছরে এই খাতে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা এসেছে, যার বেশিরভাগ অংশ জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখেছে।

সেনাবাহিনী জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ সম্পর্ক বজায় থাকবে। তারা মনে করে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যেকোনো বিভ্রান্তি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

an adbox will go here