গার্ডিয়ানকে মুহাম্মদ ইউনূস: শেখ হাসিনার শাসন ছিল ‘দস্যু পরিবারের শাসন’
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
গত বছরের আগস্টে দেশে ফেরার পর মুহাম্মদ ইউনূস এক রক্তাক্ত বাস্তবতার সম্মুখীন হন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। তখন পুলিশের গুলিতে নিহত এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারী ও শিশুর লাশ মর্গে স্তূপ করে রাখা হয়েছিল বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ভারতে আশ্রয় নেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না, ছিল একটি দস্যু পরিবারের শাসন। সরকারপ্রধানের আদেশই ছিল চূড়ান্ত। বিরোধীদের দমন, ভোট কারচুপি এবং অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়া ছিল সেই শাসনের মূল ভিত্তি।”
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামল ছিল ‘স্বৈরাচার, সহিংসতা ও দুর্নীতিতে পরিপূর্ণ’। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসের আন্দোলনে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, “সরকারবিরোধী এই আন্দোলন দমন করতে পুলিশ যে সহিংসতা চালিয়েছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।”
সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধেই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে রাজি হয়েছেন। ভারতে শেখ হাসিনার আশ্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারত যদি তাকে আতিথ্য দেয়, সেটি সহ্য করা যেতে পারে। কিন্তু তাকে প্রচারের সুযোগ দিলে তা বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।”
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করলেও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।