দুদকের অভিযোগ: টিউলিপ সিদ্দিক ও অবৈধ সম্পদের বরাদ্দে জাল নোটারি নথির ব্যবহার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক ব্রিটিশ সিটি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। অভিযোগ অনুসারে, টিউলিপ সিদ্দিক ঢাকার পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পের আওতায় সরকারি জমি বরাদ্দের সময় তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে ৬০ কাঠা (প্রায় এক একর) জমি নিজ ও তাঁর পরিবারের নামে নিশ্চিত করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানা গেছে, তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ১২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে শতকোটিরও বেশি (১০৮ কোটি) টাকার লেনদেন হয়েছে, যার বৈধ আয়ের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, টিউলিপ সিদ্দিক ঢাকার গুলশানে অবস্থিত একটি ফ্ল্যাট তাঁর বোন আজমিনা সিদ্দিকের নামে হস্তান্তরের সময় একটি ভুয়া নোটারি নথি ব্যবহার করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই নথিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী সিরাজুল ইসলামের সিল ব্যবহার করা হয়েছে। সিরাজুল ইসলামের দাবি, “যদিও সিলটি আমার নামে, কিন্তু স্বাক্ষরটি আমার নয়।” তিনি বলেন, তিনি শুধুমাত্র তাঁর চেম্বারে বসে নোটারি নথি অনুমোদন করে থাকেন, এবং টিউলিপ সিদ্দিকের সঙ্গে তাঁর পূর্ব পরিচিতি ছিল না।
টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে লেবার পার্টির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে তখন তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারের মন্ত্রী ছিলেন না। দুর্নীতি দমন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারী জমির বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় প্রচলিত পদ্ধতি পাশ কাটিয়ে অবৈধভাবে সুবিধা লাভ করেছেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে, দুর্নীতি দমন কমিশন বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, যা এই প্রক্রিয়ার ব্যাপক দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরবে।
কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “এটা কেবল টিপ অব দ্য আইসবার্গ; আরও অনেক অভিযোগ বর্তমানে দুদকের তদন্তাধীন আছে, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিবারের বিশাল দুর্নীতির প্রকৃতি প্রকাশ করবে।”
দুদক অভিযোগ করেছে, পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্প থেকে শেখ হাসিনা, তাঁর সন্তান ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নামে অবৈধভাবে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, টিউলিপ সিদ্দিক তাঁর নামে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে অন্যান্য সম্পত্তি – যেমন ফ্ল্যাট, বাড়ি, গাড়ি ও শেয়ার – কেনার জন্য অবৈধভাবে টাকার লেনদেন পরিচালিত করেছেন। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন, তিনি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সরকারি জমির বরাদ্দ পদ্ধতির বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নিজেই জমি বরাদ্দ নিয়েছেন এবং ঋণ হিসাবকে অবৈধ সম্পদ বৈধ করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
এই সকল অভিযোগ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুর্নীতির গভীরতা তুলে ধরছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বলছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সরকারি জমি বরাদ্দে নিয়ম ভেঙে নিজেদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া চালু হবে।
তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস