চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচনী তোড়জোড়, বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, আকবরশাহ ও পাহাড়তলী আংশিক) আসনে প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত করেছে। বিএনপি থেকে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লায়ন মো. আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত এবং তিনি একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে প্রার্থী দিতে পারে। আপাতত বিএনপি ও জামায়াতের দুই প্রার্থী ইফতার মাহফিল, কর্মী সম্মেলনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করছেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন চাইবেন এবং তিনিই মনোনয়ন পাবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। দলের জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ২০১২ সাল থেকে অন্তত চারবার কারাবরণ করেছেন তিনি। সর্বশেষ টানা ৮ বছর ৩ মাস ৫ দিন কারাগারে থাকার পর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুক্তি পান। আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকার প্রতিশ্রতি দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের জন্য রাজনীতি করি, অতীতেও ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব।”
সীতাকুণ্ডে সরকারবিরোধী আন্দোলন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচিতে জামায়াতের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। দলটির একক প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী জানান, সাংগঠনিক মতামতের ভিত্তিতে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং তিনি টিমওয়ার্কের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে চট্টগ্রাম জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার সভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ মনোনয়নপ্রত্যাশী। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের (মোমবাতি) সীতাকুণ্ড উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মো. মুজিব উদ্দিন জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবুল আসাদ মো. জোবাইর রজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে।
২৪শের জুলাই বিপ্লবে ছাত্র জনতার তাড়া খেয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারসহ ক্ষমতার আসন থেকে পালান করে।
এ আসনে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এমআর সিদ্দিকী এমপি নির্বাচিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ২০১৪ সালে বিনা ভোটে এবং ২০১৮ সালে বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের মো. দিদারুল আলম এমপি হয় । সর্বশেষ ২০২৩ সালে প্রয়াত আবুল কাশেম মাস্টারের ছেলে এসএম আল মামুন এমপি নির্বাচিত হন।