সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র: বামদের সহায়তায় আওয়ামী লীগের এজেন্ডা - দিগন্ত জার্নাল

সরকারকে বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র: বামদের সহায়তায় আওয়ামী লীগের এজেন্ডা

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :

দেশের রাজনীতির মাঠে এখন এক নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদের দল আওয়ামী লীগ তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বাম দলগুলোকে কাজে লাগাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে বাম দলগুলো সামনে থেকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, আর পেছনে তাদের সহযোগিতা করছে আওয়ামী লীগ, যারা এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা।

বাম দলগুলোর ওপর ভর করে সরকারকে চাপে রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে আনা হচ্ছে। ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি এবং অন্যান্য সামাজিক অপরাধের ইস্যু নিয়ে বাম দলগুলো এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে মাঠে নামানো হচ্ছে। বিশেষত শাহবাগ, শহিদ মিনার, পল্টন মোড় এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে যোগ দিচ্ছে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা, যারা নেপথ্যে থেকে এই কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব কর্মসূচিতে বামদের সামনে থাকার আড়ালে আছেন আওয়ামী লীগ নেতারা, যারা কখনো সরাসরি, কখনো আবার পরোক্ষভাবে এই আন্দোলনগুলোর পেছনে রয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনসমর্থিত ইস্যু সামনে এনে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন তীব্র করা। এমনকি অভিযোগ উঠেছে যে, সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এই আন্দোলনগুলোকে সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগ নেতারা বাম দলগুলোর সংগঠনগুলোর সঙ্গে কাজ করছেন এবং তাদের জন্য অর্থের জোগান দিচ্ছেন।

এদিকে, বাম দলগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং অন্যান্য বাম সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র এবং দেশব্যাপী বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স এই প্রতিবেদনকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, তারা শুধু একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছেন।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাম দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগের পুরনো সম্পর্ক এবং তাদের একে অপরকে সমর্থন করার ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। বিশেষত, আওয়ামী লীগ এবং বাম দলের নেতারা একাধিক ইস্যুতে একসঙ্গে আন্দোলন করেছেন এবং জোটবদ্ধভাবে কাজ করেছেন। এই সম্পর্কের কারণে অনেকেই বলছেন, বর্তমানে বাম দলগুলোকে মাঠে নামানোর পিছনে আসলে রয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল।

গণজাগরণ মঞ্চের কিছু নেতারও পুনরায় রাজপথে সক্রিয় হওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে। গণজাগরণ মঞ্চের প্রধান সংগঠক লাকী আক্তারসহ অন্যান্য নেতারা ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের নামে একাধিক সমাবেশে অংশ নেয়ার মাধ্যমে নিজেদের আবার সামনে এনেছেন। তাদের এই কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, লাকী আক্তারের এই কর্মকাণ্ডের পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগ, যারা আবারও নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে বাম সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক নেতারা এখন বিদেশে পালিয়ে গেছেন, কিন্তু তারা তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছেন। বিশেষ করে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে এনে সরকারের বিরুদ্ধে জনসমর্থন তৈরি করার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে, অনেকের দাবি, আওয়ামী লীগের পলাতক নেতারা তাদের সমর্থক বাম দলগুলোর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে চান।

এছাড়া, রাজনীতির অন্দরমহলে আলোচনা চলছে যে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং তাদের সমর্থক বাম দলগুলো পরস্পরের জন্য কাজ করছে, যা দেশের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করছে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন পল্টন, শহিদ মিনার, শাহবাগসহ অন্যান্য স্থানে বামপন্থি দলগুলোর সক্রিয়তা এবং তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক এখন এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই রাজনৈতিক সংঘাত এবং আন্দোলনের পেছনে কতটা ষড়যন্ত্র রয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়, তবে এক thing স্পষ্ট- রাজনীতির অন্ধকারে জড়িয়ে পড়া আওয়ামী লীগ এবং বাম দলগুলোর সম্পর্ক এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

an adbox will go here