শিশু সুরক্ষায় ২৫০০ কমিউনিটি হাব স্থাপন করবে সরকার
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২,৫০০টি শিশু সুরক্ষা কমিউনিটি হাব স্থাপন করা হবে। প্রতি উপজেলায় কমপক্ষে পাঁচটি করে এই হাব তৈরি করা হবে, যা নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং ক্ষতিকর আচরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মাগুরার আট বছরের এক শিশুর নির্মম মৃত্যু এবং সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ‘প্রটেকশন অব ভায়োলেন্স অ্যান্ড হার্মফুল প্র্যাকটিসেস এগেইনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড উইমেন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার এই প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৭৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ৪৬ কোটি ৪৫ লাখ এবং ইউনিসেফের অনুদান থেকে ১৩০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা দিন দিন বাড়ছে। ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৯ শতাংশ শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়।
প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে—চার বছরে ২,৫০০টি শিশু সুরক্ষা কমিউনিটি হাব স্থাপন ও পরিচালনা, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নিয়মিত সেশন পরিচালনা, শিশুদের বিকাশে উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন, অনিবন্ধিত শিশুদের জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করা, জীবন দক্ষতা ও মনোসামাজিক সহায়তা প্রশিক্ষণ, শিশু শ্রম ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরি, পিতা-মাতার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিশুবান্ধব আইন ও নীতি প্রণয়নে সহায়তা করা।
এছাড়া কিশোর-কিশোরীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি, শিশুবিষয়ক গবেষণা, শিশুবিষয়ক অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠায় কারিগরি সহায়তা এবং ১৭ হাজার ১০০ জন ফিল্ড স্টাফ নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় ২,২২,৮৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব থাকলেও এর যৌক্তিকতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের ব্যয় কাঠামো, গবেষণার বিষয়বস্তু এবং অন্যান্য খরচের যৌক্তিকতা নিয়ে পিইসি সভায় আলোচনা হবে।