কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে অনিয়ম: ৭৭ প্রকল্পের টাকা ভাগবাটোয়ারা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে ৭৭টি প্রকল্পের প্রায় ১০ কোটি ৮৪ লাখ ৫০০ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধি শহিদ উল্লা খন্দকারসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটিতে আত্মীয়স্বজন ও নিজের লোকদের দিয়ে প্রকল্পগুলোর কাজ চালানো হয় এবং নামসর্বস্ব কাজ করে টাকাগুলো আত্মসাৎ করা হয়।
২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচির আওতায় শহিদ উল্লা খন্দকারের নেতৃত্বে ৭৭টি প্রকল্প গ্রহণ এবং অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৬৫টি প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা এবং ১২টি প্রকল্পে ৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শহিদ উল্লা খন্দকার নিজে ১৭টি প্রকল্পের কাজ করেন, যার মধ্যে কাচারীভিটা ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট ছাড়া বাকি ১৬টি প্রকল্পের কাজ আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের দিয়ে করিয়েছেন। অন্যদিকে বাকি প্রকল্পগুলো উপজেলার জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাগবাটোয়ারা করেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত বিল উত্তোলন করা হয়েছে এবং বেশিরভাগ প্রকল্পে ৯০-৯৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার দাবি করা হলেও স্থানীয়দের মতে, প্রকল্পগুলোয় গড়ে মাত্র ৩৫ শতাংশ কাজ হয়েছে এবং বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
কোটালীপাড়ায় মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, সড়ক নির্মাণসহ নানা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হলেও বেশিরভাগ জায়গায় নামমাত্র কাজ হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে ব্যক্তিগত জমি ভরাট করা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের মাঠ ও পুকুরপাড়ের সংস্কারের নামে শহিদ উল্লা খন্দকার নতুন করে বরাদ্দ নিয়েছেন এবং বহু প্রকল্পে মাত্র কিছু কাজ করে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।
এছাড়া অনুসন্ধানে জানা যায়, শহিদ উল্লা খন্দকার তার ১৭টি প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি নিজের আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠজনদের নিয়োগ করেন।
গুঞ্জন রয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশ ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচএম আনসার জানান, তিনি নতুন যোগদান করেছেন এবং এসব প্রকল্পের কাজ এখনো তার নজরে আসেনি।