বাংলা নববর্ষ সুন্দর হোক, বিজাতীয় আগ্রাসন বন্ধ হোক: মুহিব খান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বাংলা সংস্কৃতি ও জাতীয় চেতনা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বিশিষ্ট চিন্তক, গবেষক, রাষ্ট্রচিন্তাবিদ, দার্শনিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সুর ও সংগীতের কিংবদন্তি, জাগ্রত কবি মুহিব খান বলেছেন, “বাংলা নববর্ষ সুন্দর হোক, বিজাতীয় আগ্রাসন বন্ধ হোক।” তিনি জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি হিসেবে এক বিবৃতিতে নববর্ষ উদযাপনের মৌলিক রূপ ও চেতনা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে মুহিব খান বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের বাংলা নববর্ষ। এর জাতীয় গুরুত্ব ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য অনেক। তবে এটিকে আল্লাহর ইবাদত নামাজ-রোজার সঙ্গে তুলনা করা বা সমকক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা সম্পূর্ণ অনুচিত এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ। আমরা সংস্কৃতি উপদেষ্টার এহেন অজ্ঞতাপ্রসূত মন্তব্যের গঠনমূলক প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “এবারের পহেলা বৈশাখ বা নববর্ষ উদযাপন খাঁটি বাঙালি ও দেশীয় সংস্কৃতির আদলে যেন থাকে, সে বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ধর্ম-বর্ণ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বাঙালির এই সর্বজনীন উৎসবকে তিলক, ঢোলক, রাখিবন্ধন ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মতো ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতি এবং মঙ্গল শোভাযাত্রার মতো অন্ধকার যুগের কুসংস্কার থেকে মুক্ত রাখার কঠোর দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বিগত বছরগুলোতে কিছু কুচক্রী মহল এই সর্বজনীন উৎসবটিকে বিশেষ একটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আচার ও বিজাতীয় সংস্কৃতির কালোছায়ায় ঢেকে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। অথচ বাংলাদেশের মানুষ ভাষায় প্রায় শতভাগ বাঙালি, দেশ পরিচয়ে বাংলাদেশি এবং বিশ্বাস ও চেতনায় প্রায় শতভাগ মুসলিম। তাই বাঙালির প্রাণের নববর্ষকে এই গভীর চক্রান্ত থেকে বের করে আনতে সরকারকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ঢাকাসহ সারাদেশে হিন্দি-ইংরেজি তথা বিদেশি ভাষার সংগীতায়োজন ও পশ্চিমা আদলের কনসার্ট নিষিদ্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় ধর্মপ্রাণ, দেশপ্রেমিক বাংলাদেশি বাঙালি মুসলমানরা বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবে।”
তিনি নববর্ষের সার্বজনীন ও নিজস্ব সংস্কৃতির রূপকে পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে বলেন, “বিজাতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বন্ধ হোক। বাঙালির প্রাণের নববর্ষ আবার সুন্দর ও সর্বজনীন হয়ে উঠুক—এই আমাদের প্রত্যাশা।”