জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর চাহিদা বাড়ছে, জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত - দিগন্ত জার্নাল

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর চাহিদা বাড়ছে, জনবল সংকটে সেবা ব্যাহত

‘দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিন ২২ থেকে ২৫ হাজার মানুষ এই সেবা গ্রহণ করছেন। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ রোধ, জুয়া, সাইবার অপরাধ, ইভটিজিং, ছিনতাই, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা জরুরি পরিস্থিতিতে কল করে সহায়তা নিচ্ছেন সাধারণ জনগণ। তবে প্রয়োজনের তুলনায় থানা-ফাঁড়ি পর্যায়ে জনবল সংকট থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৯৯৯-এর প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি মহিউল ইসলাম জানান, “আমাদের অধিকাংশ জরুরি সেবা পুলিশের থানা, ফাঁড়ি বা তদন্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু প্রতিটি থানা-ফাঁড়িতে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল, টহল গাড়ি ও মোটরসাইকেল অপ্রতুল। যদি ৯৯৯-এর জন্য ডেডিকেটেড অফিসার ফোর্স, টহল গাড়ি ও মোটরসাইকেল বরাদ্দ হয়, তবে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।”

২০১৭ সালে চালু হওয়া এই জরুরি সেবা হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯৯৯-এর মাধ্যমে ২০ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৩ জন কলারকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩% কল ছিল পুলিশি সহায়তা সংক্রান্ত, ৮% ফায়ার সার্ভিস এবং ৯% অ্যাম্বুলেন্স সেবা সংক্রান্ত।

প্রতিদিন গড়ে ২২ থেকে ২৫ হাজার কল রিসিভ করে ৯৯৯। তবে এর মধ্যে মাত্র ৪৪% কল জরুরি সেবাযোগ্য, বাকিগুলো ব্ল্যাংক কল, মিসড কল বা ফেক কল। ৯৯৯ চালুর পর থেকে ৬ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার ৫৯টি কল গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ কোটি ৪৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯৬১টি কল অজরুরি ছিল।

২০২৩ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৯৯৯ প্রথম বড় সংকটের মুখে পড়ে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর পুলিশের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ফলে কয়েকদিন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, “৫ আগস্টের পর জরুরি সেবা পেতে বহু মানুষ ফোন করলেও, আমরা তাৎক্ষণিক সেবা দিতে পারিনি। মূলত থানা-ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পুরোদমে সেবা দেওয়া হচ্ছে।”

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ৯৯৯ ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রীদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদানে সক্রিয় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

সম্প্রতি ৯৯৯-এর মাধ্যমে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২৩ মার্চ রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে গভীর সাগরে হারিয়ে যাওয়া ১২ জন জেলে ৯৯৯-এ ফোন করে সাহায্য চাইলে, দ্রুত কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ তাদের উদ্ধার করে নিরাপদে উপকূলে ফিরিয়ে আনে।

এছাড়া, ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে শেরপুরগামী বাসে নিজের ৬ বছর বয়সী সন্তান রেখে এক ব্যক্তি ভুলবশত নিচে নেমে গেলে, ৯৯৯-এ ফোন করেই শিশুটিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সহায়তায় বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

৯৯৯ সেবার প্রসার ঘটাতে জনবল ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও দ্রুত ও কার্যকর সেবা পেতে পারেন।

an adbox will go here