অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস: বিশ্ব পরিবর্তনে বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বকে বদলে দিতে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার বেইজিংয়ে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু শেখার জায়গা নয়, এটি স্বপ্ন দেখারও জায়গা।”
স্বপ্ন দেখতে পারাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আপনি যদি স্বপ্ন দেখেন, তবে তা ঘটবেই। আপনি যদি স্বপ্ন না দেখেন, তবে তা কখনও ঘটবে না।” অতীতের দিকে নজর দিয়ে তিনি বলেন, “যা কিছু ঘটেছে, কেউ না কেউ আগে তা কল্পনা করেছিল।” শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে অদ্ভুত ও অকল্পনীয় বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করে তিনি বলেন, “মানবসভ্যতার যাত্রা হলো অসম্ভবকে সম্ভব করা। সেটাই আমাদের কাজ।”
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসকে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করা হয়। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় কাউন্সিলের সভাপতি হে গুয়াংচাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট গং চিহুয়াং এতে বক্তব্য রাখেন। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমি পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের ঘর মনে করি, কারণ আমি এখানকার সম্মানসূচক অধ্যাপক।”
পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান, প্রজ্ঞা, উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতার কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “এমন মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত।” এই সম্মাননা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় তার সেই প্রতিশ্রুতির কথা, যা তিনি গত বছর বাংলাদেশে রূপান্তরকারী পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকা লক্ষ লক্ষ যুবকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য করেছিলেন।
তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। এক গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে তার সরকারের সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যেখানে উদ্যোক্তা বিকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “মানুষ জন্মগতভাবে দরিদ্র নয়, বরং ভুল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার কারণে দরিদ্র হয়ে পড়ে, যেখানে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে না।” তিনি বলেন, সমাজে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণার কারণেই মানুষ কষ্ট ভোগ করে।
তিনি বলেন, “মানুষ জন্মগ্রহণ করে চাকরি খোঁজার জন্য নয়, বরং তারা সৃষ্টিশীল। মানুষকে চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সকল মানুষই উদ্যোক্তা।”
নারীদের বিপুল সম্ভাবনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এমনকি বাংলাদেশের দরিদ্রতম নারীও মাত্র ২০ মার্কিন ডলার ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, নারীরা বিশ্বের যে কোনো জায়গায় উদ্যোক্তা হতে পারেন।
শিক্ষার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে বিশ্বকে পরিবর্তন করা।” বিশ্বকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে কার্বনমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।