শ্রীমঙ্গলে টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষ, ৩৯ জন আহত, ১৪ জন আটক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
৩১ মার্চ ২০২৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে টমটম পার্কিং নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে উপজেলার গদার বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষে অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি টমটম ও একটি প্রাইভেটকার ভাঙচুর করা হয়। ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ সড়কে গদার বাজারে কয়েক মাস আগে বিএনপি নেতা মহসিন মিয়া মধু বিনা লাভের বাজার খুলে দেন, যা আগে টমটম চালকদের স্ট্যান্ড ছিল। রোববার রাতে বাজার পরিদর্শনে এসে মধু উত্তেজিত হয়ে টমটম চালকদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে সাবেক ইউপি সদস্য আনার মেম্বারের সঙ্গে তাঁর লোকজনের সংঘর্ষ ঘটে। এই ঘটনায় মধুর লোকজন টমটম চালকদের ওপর হামলা চালায় এবং ১৫টি টমটম ভাঙচুর করে। পরে ভানুগাছ সড়কে সাগর নামে এক পরিবহণ শ্রমিক নেতার প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনাটি জানার পর পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামের লোকজন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে শহরের দিকে এগিয়ে আসে। তারা মধুর বাসায় আক্রমণের চেষ্টা করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে। এরপরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা রাত ২টা পর্যন্ত চলতে থাকে। এতে উভয়পক্ষে ৩৯ জন আহত হন এবং শহরের বিভিন্ন দোকানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে দোকানপাট বন্ধ করে পালিয়ে যান।
রাত ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করে। সেনাবাহিনী মধুর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে এবং ১৪ জনকে আটক করে, তাঁদের মধ্যে মধু, তাঁর ছেলে সুমন, ভাই সেলিম আহমদসহ ১৩ জন রয়েছেন। পরে তাঁদের পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। একই রাতে পশ্চিম ভাড়াউড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে আনার মেম্বারের ছেলেকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র এএসপি আনিসুর রহমান জানান, ১৪ জনকে সেনাবাহিনী তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীকে তলব করা হয়।