ইসরাইলের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিরোধ গড়তে এনসিপি নেতা প্রীতম সোহাগের আহ্বান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল ২০২৫ || গাজা-রাফাসহ ফিলিস্তিনে ইসরাইলি চলমান গণহত্যা ও নৃ’শংসতা এবং বিশ্বব্যাপী মুসলিম নিপীড়নের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরে এক আবেগঘন ও প্রতিবাদী বার্তা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ। ৮ এপ্রিল মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “দোয়া-তো করতেই হবে, তবে শুধু দোয়ার উপর নির্ভর করে বসে থাকলেই চলবে-না, দোয়ার সাথে সাথে তার সঠিক সমাধানের পথেও হাঁটতে হবে । আদম সন্তানের মধ্যে সর্ব উৎকৃষ্ট বিশ্ব মানবতার আলোক দিশারী নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নিজেও স্ব-শরীরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অনেক গুলো যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। নবী (সাঃ) তিনিও দোয়া করতেন আল্লাহর দরবারে, তাঁর দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়েছে। অথচ তিনি অনেকগুলো যুদ্ধের সেনাপতি। নবীর আদর্শ থেকে আমাদেরকে শিক্ষা নিতে হবে।
তিনি মনে করেন, শুধু কান্না কিংবা আবেগে ভেসে না গিয়ে, বাস্তব জীবনে করণীয় কাজগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করাই হবে মুসলিম বিশ্বের প্রতি প্রকৃত সংহতি।
প্রীতম সোহাগের প্রস্তাবনা অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার করণীয়:
ছাত্র-ছাত্রীরা:
তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, “পড়াশোনা করো, Inter-national students হয়ে উঠো। অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীরা মেধার ভিত্তিতে দখল করে নাও, যেগুলো বর্তমানে ইহুদি ছাত্রছাত্রীদের দখলে।” তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে এ শিক্ষার্থীরাই যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পদের দায়িত্ব নেয় এবং ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার মতো ঘটনা বৈধতা দিতে চায়।
রাজনীতিবিদরা:
তিনি বলেন, “আপনারাও শিক্ষিত হোন, ইংরেজি ভাষা রপ্ত করুন। শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো বিশ্ব সম্পর্কে জানুন ও কথা বলুন। বিশ্বনেতা হয়ে উঠুন।”
সাধারণ নাগরিকরা:
আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তিনি বলেন, “নেটিজেন’রা টুইটার (বর্তমানে X) ব্যবহার শিখুন। বিশ্বনেতারা এখানে থাকেন, শুধু ফেসবুক নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে English-এ লিখে প্রচার করুন, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা প্রতিহত করুন।”
বয়কট ও প্রযুক্তি উন্নয়ন:
শুধু ইসরায়েলি পণ্য বয়কট করলেই চলবে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এ ধরনের পণ্যের চেয়ে উন্নত বিকল্প উদ্ভাবন করে তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।”
সরকারের প্রতি আহ্বান:
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ‘নো ইসরায়েল’ নীতির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সামরিক, কূটনৈতিক, আর্থিক, বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক—যে কোনো ক্ষেত্রে ইসরায়েলের স্বার্থে জড়িত কিছু বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবে না—এমন আইন চালু করা দরকার। এসব লঙ্ঘন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ করতে হবে।”
ফেসবুকে প্রকাশিত এই বক্তব্যে “প্রীতম সোহাগ” কেবল আবেগ নয়, বাস্তব ও কৌশলী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তরুণ প্রজন্ম ও জাতীয় নেতৃত্বকে।
নিশ্চিতভাবে। নিচে প্রীতম সোহাগের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে একটি বিষয়ভিত্তিক, সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী শিরোনাম দেওয়া হলো—