জামায়াতের কৌশলে ঘুরছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনীতি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫ || ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভিন্ন কৌশলে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, একইসঙ্গে বিএনপি ও নবীন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপির সঙ্গেও দূরত্ব রাখতে চায় না। এসবের প্রেক্ষিতে নির্বাচন সংক্রান্ত সময়সীমা, সংস্কার ও বিচারের দাবিতে বারবার অবস্থান বদল করছে তারা। দলীয় সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে নিবন্ধন অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তির প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় থাকা—এ তিনটি বড় কৌশলগত লক্ষ্য।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত ইতোমধ্যে দুই শতাধিক আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা প্রস্তুত করেছে। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত একটি সময়সীমা দেওয়া হলেও, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রথমে রমজানের আগেই নির্বাচন চেয়েছিলেন। পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনটি শর্ত—প্রয়োজনীয় সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ—উপস্থাপন করে সময়সীমা নিয়ে নমনীয়তা প্রকাশ করেন।
তবে এটিএম আজহারের মুক্তি প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর পুত্র নাদিমুর রহমান নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কঠোর সমালোচনা করে লেখেন, যারা ফাঁসির রায় ঠেকাতে ব্যর্থ, তারা নীতিগত অবস্থান হারিয়েছে। তিনি এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি ও সংগঠনের পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
জামায়াত মনে করছে, সরকার ও অন্যান্য দলের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে এবং নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে নমনীয় অবস্থান নিয়ে তারা নিজ দলের অবস্থান শক্ত করতে পারবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত এখন দরকষাকষির কৌশল নিচ্ছে। সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামালের ভাষায়, ‘রাজনীতি মানেই দরকষাকষি। জামায়াতের জন্য যে পথ সবচেয়ে লাভজনক, তারা সেটাই বেছে নিচ্ছে।’
নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ পাঁচটি খাতে সংস্কারের দাবি জানিয়ে জামায়াত বলছে, এসব শর্ত পূরণ হলে নির্বাচন অর্থবহ হবে। একইসঙ্গে তারা দাবি করছে, গণহত্যায় অভিযুক্তদের দৃশ্যমান বিচার যেন জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেটা নিশ্চিত করাও জরুরি। তবে এসব দাবির ফাঁকে এটিএম আজহারের মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত থাকায় জামায়াতের অভ্যন্তরে ভাঙন ও ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।