ঢাবি-সাত কলেজ সংঘর্ষ: শিক্ষার্থীদের প্রতি ছাত্রদল নেতার আহ্বান
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ও অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান সংঘর্ষে নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে এবং ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে শিক্ষার্থীদের সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “ঢাকা শহরের সাতটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু ফ্যাসিস্ট সরকার এবং তাদের সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতকে হুমকির মুখে ফেলে এই কলেজগুলোকে ঢাবির অধিভুক্ত করেছে। এ সিদ্ধান্ত ছিল একদম অবিবেচনাপ্রসূত।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শিক্ষার্থীর প্রতি আহ্বান, সহিংসতা থেকে দূরে থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করুন। নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারকে কোনো সুযোগ দেবেন না।”
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দ্রুত এই সংকট সমাধানে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শিক্ষার্থী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে হবে।”
সংঘর্ষের কারণ ও প্রেক্ষাপট
রোববার সন্ধ্যায় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল:
১. অযৌক্তিক কোটা পদ্ধতি বাতিল।
২. ক্লাসরুমের ধারণক্ষমতার বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ।
৩. শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বিবেচনা করে ভর্তি প্রক্রিয়া।
৪. নেগেটিভ মার্ক প্রবর্তন।
৫. ভর্তি ফি সংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ।
এই দাবিতে তারা বিকেলে ঢাবির প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের কার্যালয়ে যান। প্রো-ভিসি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তা উপেক্ষা করে তারা কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় আলোচনা ব্যর্থ হয় এবং শিক্ষার্থীরা অবরোধ শুরু করেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ঢাবি ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারে পুরো এলাকা অস্থির হয়ে ওঠে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।