খলনায় বিএনপি'র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল লুটপাটের অভিযোগ - দিগন্ত জার্নাল

খলনায় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল লুটপাটের অভিযোগ

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
খুলনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক দখল ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে, যা দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা এবং দখল ও লুটপাট বন্ধ করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে, তারপরও খুলনা মহানগরী ও বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসব কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছেন।

খুলনা মহানগরীসহ জেলা ও উপজেলায় দলীয় নেতাকর্মীরা দোকানপাট, মৎস্য ঘের, খেয়াঘাট, জায়গাজমি, বালুমহালসহ বিভিন্ন সম্পত্তি দখল করতে শুরু করেছেন। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২০০টি অভিযোগ মনিটরিং সেলে জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২০-২৫ জন নেতাকর্মীকে বহিষ্কার এবং শতাধিক নেতাকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। তবে এসব কর্মকাণ্ড মূলত খুলনা মহানগরী ও ৯টি উপজেলার মধ্যে বেশি দেখা গেছে।

খুলনা মহানগরী এলাকার অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে খানজাহান আলী থানা এলাকায় শিরোমনি বিআইডব্লিউটিএ সার গুদামের ঘাট ইজারা দেওয়ার সময় বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কাজী মিজানুর রহমানের লোকজনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ, এবং প্রশিকার সংস্থার ৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করার অভিযোগ, যা সাবেক আহ্বায়ক কাজী মিজান ও সাবেক ছাত্রদল নেতা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। নগরীর ২১নং ওয়ার্ডের একটি ঘাট, যা সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা চৌধুরী মিনহাজ উজ জামানের ছিল, এখন বিএনপির এক নেতার দখলে রয়েছে। এছাড়া রেলওয়ে মার্কেটের ভেতরের পুরাতন ভবন দখল করার অভিযোগও উঠেছে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদের বিরুদ্ধে।

এদিকে খুলনা জেলার উপজেলার মধ্যে অভিযোগের সংখ্যা আরও বেশি। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি বাজারে শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ডাবলুর বিরুদ্ধে, এবং দিঘলিয়া উপজেলার বোয়ালিয়া ব্রিজের কাছে প্রায় ৫০ বিঘা ঘের দখলের অভিযোগ রয়েছে পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোড়লের বিরুদ্ধে। মহানগরের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল দখল করে খুলনা বিভাগীয় বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি পরিচালনা করছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি সমর্থকরা।

কেন্দ্রীয় বিএনপি এসব অভিযোগের ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। দখল ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে শতাধিক নেতাকর্মীকে শোকজ এবং প্রায় ২০ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে, যা এসব অভিযোগের অনুসন্ধান ও তদন্ত করে সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। খুলনা মহানগর বিএনপির মনিটরিং সেলের আহ্বায়ক রেহেনা ঈসা জানিয়েছেন, প্রায় ২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, এবং এসব অভিযোগের তদন্ত শেষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, বিএনপির নেতারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, যে সমস্ত অভিযোগ উঠেছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার হচ্ছে। যদিও এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, বিএনপির মধ্যে কিছু নেতাকর্মী দলের নির্দেশনা এবং শৃঙ্খলার প্রতি অবজ্ঞা দেখিয়ে দখল ও লুটপাটের কাজে জড়িত। কেন্দ্রীয় বিএনপি এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও স্থানীয় স্তরে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, যা দলটির জন্য একটি বড় সংকট হতে পারে।

an adbox will go here