ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা, রমজান ও নির্বাচনের প্রস্তুতি
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুততম সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিএনপি ফেব্রুয়ারিতে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ঢাকাসহ সারা দেশে দুই ধাপে সমাবেশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জানানো হয়, রমজানের আগে দ্রব্যমূল্য নিয়ে জনগণের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জনদাবি আদায় এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য কর্মসূচি পালন করা হবে। বিএনপির নেতারা বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপি জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।
বৈঠকে ছাত্রদের প্রস্তাবিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি নেতারা ছাত্রদের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও খসড়ায় কিছু সংশোধন আনার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। বিশেষ করে, বাহাত্তরের সংবিধান বাতিলের প্রস্তাব যুক্তিসঙ্গত নয় বলে মত দিয়েছেন নেতারা। বিএনপির অভিমত, মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং গত ১৭ বছরে গণতন্ত্রের জন্য বিএনপির ত্যাগ ও সংগ্রামকে ঘোষণাপত্রে স্থান দিতে হবে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংস্কার প্রয়োজন এবং চলতি বছরের জুলাই-আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব। তবে, নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে সরকার গড়িমসি করলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হবে।
বৈঠকে জানানো হয়, ছাত্রদের প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রের খসড়া ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। এটি আরও পর্যালোচনার পর শরিকদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করা হবে। বিএনপি নেতারা বলেন, ঘোষণাপত্র গণ-অভ্যুত্থানের ডিক্লারেশন হিসেবে তৈরি হবে এবং এটি রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঘোষণা করা হবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বিএনপি আবারও মাঠে নামছে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে দলীয় কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে খুব শিগগিরই কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবে বিএনপি। এই কর্মসূচি রমজানের আগে শেষ করা হবে এবং প্রয়োজন হলে রমজানের পর নতুন কর্মসূচি নেওয়া হবে।