কুরআনের আদর্শে সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান: আমিরে জামায়াত - দিগন্ত জার্নাল

কুরআনের আদর্শে সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠার আহ্বান: আমিরে জামায়াত

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

লক্ষ্মীপুর, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর আমির ডা. শফিকুর রহমান শনিবার সকালে লক্ষ্মীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, যুবকদের ভূমিকা এবং ইসলামী আদর্শে সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, “আমাদের সন্তানরা বিশাল একটি স্বপ্ন নিয়ে জীবন দিয়েছিল। তারা বুক পেতে বলেছিল, ‘বুকের ভেতর তুমুল ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।’ ওই ঝড় ছিল সমাজের অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি এবং দু:শাসনের বিরুদ্ধে।” তিনি আরও বলেন, “কোনো যুগেই যুবকরা দুর্নীতি এবং দুঃশাসনকে সমর্থন করে না। বরঞ্চ তারা তার বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। তরুণদের এতো ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীনতা এসেছে।” তবে তিনি লক্ষ্মীপুরে চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, “চাঁদাবাজি এখনো আছে, দয়া করে এ ধরনের কাজ বন্ধ করুন।”

তিনি যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা কুরআনের আলোতে সমাজ গড়ব, ইনশাআল্লাহ।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের যুবকরা আমাদের স্বপ্ন এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যত। তাদের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দিতে চাই।”

শান্তিপূর্ণ শাসনব্যবস্থা উদাহরণ হিসেবে তিনি মদিনা রাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “মুহাম্মাদুর রাসুল্লাহ (সা.) এর শাসন ছিল আদর্শের ভিত্তিতে, এবং সেই আদর্শ অনুসরণ করলে বাংলাদেশের সমাজও সোনালী সমাজে পরিণত হবে।”

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের আদর্শে শাসন প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়ে বলেন, “একমাত্র কুরআনই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” তিনি কুরআনকে সম্মান করতে এবং বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এ দেশের ভবিষ্যত গড়ার আহ্বান জানান।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “এ দেশে যতগুলো ইসলামী দল আছে, তাদের কেউ জাতির ওপর জুলুম বা চাঁদাবাজি করছে না, কারণ তারা কুরআনকে সম্মান করে এবং আল্লাহর ভয় করে।”

লক্ষ্মীপুরের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “লক্ষ্মীপুরকে ফুলের বাগান বানানোর সুযোগ ছিল, কিন্তু তা রক্ত এবং লাশ দিয়ে সাজানো হয়েছে।” তিনি যুবকদের উদ্দেশে বলেন, “লক্ষ্মীপুরবাসীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব।”

এছাড়াও, তিনি সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মুক্তি দাবি করেন এবং সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেন যে, তারা ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের খুন করেছে।

গণজমায়েতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এবং অন্যান্য অতিথি। বিশাল জমায়েতে লক্ষ্মীপুর শহর থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয় এবং শহরজুড়ে স্লোগান শোনা যায়।

মাওলানা এটিএম মাসুম, মোবারক হোসাইন, কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, ড. মুহাম্মাদ রেজাউল করিম এবং অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে ইসলামী আদর্শ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।

জামায়াত নেতৃবৃন্দের মতে, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য ইসলামের আদর্শে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং তারা আগামী দিনে বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

an adbox will go here