রাজধানীতে বিএনপি কর্মীকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে গ্রেফতারের অভিযোগ
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক :
রাজধানীতে এক বিএনপি কর্মীকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতার হওয়া ওই কর্মী হলেন প্রকৌশলী এস এম গোলাম মর্তুজা।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাগর রুনি মিলনায়তনে তার স্ত্রী প্রিন্সিপাল নাদিরা মর্তুজা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মো. মজনু মিয়া, বিএনপি নেতা মো. শাহ আলম এবং ব্যবসায়ী আকবর দেওয়ান।
লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগীর স্ত্রী প্রিন্সিপাল নাদিরা মর্তুজা জানান, গত ৩ মার্চ সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে র্যাব-১ এর একটি টিম সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক একটি মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা সাজিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এস এম গোলাম মর্তুজাকে আটক করে।
তিনি বলেন, “এস এম গোলাম মর্তুজা কখনো আওয়ামী লীগ বা এর কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বরং তার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।” গোলাম মর্তুজার বাবা কাবিল সরকার দীর্ঘ প্রায় তিন যুগ ধরে পল্লবীর মুসলিম বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বিএনপি সমর্থিত সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া তিনি ২০১৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে বেগম খলেদা জিয়া স্বাক্ষরিত একটি সদস্যভুক্তি রশিদ নবায়ন করেন।
এছাড়াও, ২০২১ সালে তিনি বিএনপির সাধারণ সমর্থক হিসেবে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও মহানগর উত্তর বিএনপি নেতা আমিনুল হক স্বাক্ষরিত “তথ্য সংগ্রহ ফরম” পূরণ করেন।
নাদিরা মর্তুজা বলেন, “প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা ২৪ এর গণআন্দোলনের সময় ছাত্র জনতার পক্ষে সমর্থন দিয়ে আন্দোলনকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রান্না করা খাবার ও পানি সরবরাহ করেছেন এবং দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকার সময় রঙ ও তুলি সরবরাহ করে উৎসাহিত করেছেন।”
এদিকে, গোলাম মর্তুজাকে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দলের পল্লবী থানার আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য বানিয়ে মিথ্যা মামলা সাজানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাদিরা মর্তুজা আরও বলেন, “আমার স্বামী একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক। তিনি নিজ উদ্যোগে স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ নির্মাণ করেছেন। এস এম গোলাম মর্তুজার কোনো রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নেই। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কিছু ব্যক্তি তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হেয় করার চেষ্টা করছে।”
তিনি গ্রেফতার পরবর্তী সময়ে গোলাম মর্তুজার পরিবারকে সন্ত্রাসী দ্বারা হুমকি প্রদান করার অভিযোগও করেছেন। মিথ্যা মামলা থেকে গোলাম মর্তুজার নাম বাদ দিয়ে অবিলম্বে তার মুক্তির দাবি জানান তিনি এবং প্রধান উপদেষ্টা, আইন উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের নিকট আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার কামনা করেন।