গ্রেফতার এড়াতে কালবেলা পত্রিকার সংবাদ কর্মী পরিচয়ে যুবলীগ নেতা রানা - দিগন্ত জার্নাল

গ্রেফতার এড়াতে কালবেলা পত্রিকার সংবাদ কর্মী পরিচয়ে যুবলীগ নেতা রানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ের এক যুবলীগ নেতা পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের সাথে মামলায় জড়িত থাকা যুবলীগ নেতা এখন সাংবাদিক পরিচয়ে নিজেকে বদলে ফেলার জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন । জাতীয় দৈনিক “কালবেলা” পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ নিয়ে অতীতের পরিচয় আঁড়াল করে ধাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ২৬ আগস্ট কলমাকান্দা থানায় ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের এমপি মোশতাক আহমেদ রুহীসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখিয়ে শাহিনুর আলম শাহিন নামে এক ব্যক্তি চাঁদাবাজি ও নাশকতার একটি মামলা করেন। সে মামলার ১৩ নম্বর আসামি মোঃ রানা মিয়া (আবির আহমেদ রানা ওরফে রানা আকন্দ), পিতা- হাবিবুর রহমান, সাং- কান্দাপাড়া, ইউপি- কৈলাটি, থানা- কলমাকান্দা, জেলা- নেত্রকোনা। ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

২৮ আগস্ট “নেত্রকোনার সাবেক এমপি রুহীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা” শিরোনামে জাতীয় দৈনিক “কালবেলা” পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে সংবাদ প্রকাশিত হয়, যেখানে কলমাকান্দা থানার ওসির বরাত দিয়ে রানা মিয়ার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। গ্রেফতারের কিছুদিন পরেই জামিনের মাধ্যমে হাজত থেকে বের হয়ে আসে রানা ।

কৈলাটি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সারোয়ার জাহান তালুকদার সূত্রে নিশ্চিত জানা যায়, আবির আহমেদ রানা ওরফে রানা আকন্দ কৈলাটি ইউনিয়ন যুবলীগের ৫৫ নম্বর সদস্য।

বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যুবলীগ নেতা রানা আকন্দ প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিয়ে গ্রেফতার এড়াতেই সাংবাদিকতার নতুন পরিচয়ে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা দাবি করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা “আব্দুল বারি ড্যানীর” মত সম্মানিত ব্যাক্তির নাম ভাঙ্গিয়ে খুব দাপুটে চলাফেরা করছেন রানা।

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী রানাকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, যুবলীগ নেতা মোঃ রানা মিয়া ওরফে রানা আকন্দের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের এমপি রুহীর সঙ্গে চাঁদাবাজির মামলায় নাম রয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো।

এ বিষয়ে নেত্রকোনা জেলার পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, “যদি কেউ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার উদ্দেশ্যে নিজের পরিচয় গোপন করে ভিন্নমুখী তৎপরতা চালিয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

an adbox will go here