নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিয়ে বিশ্লেষণ করলেন ড. মাহদী আমিন
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
ঢাকা, ৩ এপ্রিল ২০২৫: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করেছেন। বুধবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এসব বিষয়ে মত প্রকাশ করেন।
“নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মানে কী?” শিরোনামের পোস্টে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষক লেখেন, “ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে ডিজইনফরমেশন ও প্রোপাগান্ডা ছড়ানো, কিংবা ফ্যাসিবাদের সময়ে যারা সবচেয়ে বেশি গুম-খুন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে হেইট ক্যাম্পেইন চালানো নিশ্চয়ই নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নয়!”
তিনি আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থেকে নতুন দল গঠন, বিতর্কিত পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়ন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও কৃতিত্বকে দলীয়করণ, বা অনির্বাচিত সরকারের মেয়াদে ম্যানিপুলেটেড এক্সটেনশন—এসবও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।”
তার মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অর্থ হওয়া উচিত “শিষ্টাচার, সম্মানবোধ, এবং সহাবস্থান”, যা অধিকাংশ রাজনৈতিক কর্মীর মধ্যেই রয়েছে, তবে কিছু ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
ড. মাহদী আমিন বলেন, “গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো পারস্পরিক ভিন্নমতকে সম্মান করা। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, বিরোধী মতাদর্শের মানুষকে হেনস্থা বা অপপ্রচার চালানো উচিত। জনগণের সঙ্গে থাকা, তাদের সমস্যা সমাধান করা এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস হিসেবে জনগণকে মূল্যায়ন করাই প্রকৃত নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটি যদি জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, অনলাইনের মব কালচারে রূপ নেয়, বা পরিকল্পিত চরিত্রহননের রূপ নেয়, তাহলে সেটি স্বৈরশাসনের লক্ষণ হয়ে দাঁড়ায়।”
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন পজিটিভ ও প্রগ্রেসিভ রাজনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল নীতি। বিভাজনের দিকে না গিয়ে, ঐক্যবদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই হবে গণঅভ্যুত্থানের আসল আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”