জাতীয় নির্বাচনে এনসিপির সামনে কঠিন লড়াই, হেভিওয়েট প্রার্থীদের চাপে শীর্ষ নেতারা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বৃহস্পতিবার, (২৬ জুন ২০২৫) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ নেতাদেরকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ, তাদের অধিকাংশ সম্ভাব্য আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর জনপ্রিয় এবং অভিজ্ঞ প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের মাঠে গণ-আবেগ জাগাতে ব্যর্থ হলে এনসিপির জন্য নির্বাচনী ফলাফল বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সংস্কার ও বিচারপ্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোট হতে পারে। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী মাঠ গোছাতে শুরু করেছে এবং শীর্ষ নেতাদের সম্ভাব্য আসনও প্রায় ঠিক করে ফেলেছে।
সূত্র জানায়, এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আছেন— নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, ডা. তাসনিম জারা, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং আবদুল হান্নান মাসউদ। তবে তাদের অনেকেই বিএনপি ও জামায়াতের অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলামের বিপরীতে মাঠে থাকবেন বিএনপির ড. এমএ কাইয়ুম এবং জামায়াতের আতিকুর রহমান। রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন প্রয়াত এমপি রহিম উদ্দিন ভরসার ছেলে এমদাদুল হক ভরসা এবং জামায়াতের এটিএম আজম খান।
ভোলা-১ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী সামান্তা শারমিনকে লড়তে হতে পারে বিএনপির তরুণ নেতা হায়দার আলী লেলিন, প্রবীণ নেতা গোলাম নবী আলমগীর, ও জামায়াতের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম-এর সঙ্গে। ঢাকা-১৪ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীবের প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও জামায়াত নেতা মীর আহমদ বিন কাশেম।
নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষারকে লড়তে হবে ড. আবদুল মঈন খান এবং জামায়াতের আমজাদ হোসাইন-এর সঙ্গে। আর গুলশান-ক্যান্টনমেন্ট এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৭ আসনে ডা. তাসনিম জারার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন আন্দালিভ রহমান পার্থ ও জামায়াতের ডা. খালিদুজ্জামান।
উত্তরাঞ্চলে সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১) এবং দক্ষিণাঞ্চলে হাসনাত আবদুল্লাহ (কুমিল্লা-৪), নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (চাঁদপুর-৫) এবং আবদুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬) সকলকেই হেভিওয়েট বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। কুমিল্লা-৪ আসনে হাসনাতের বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নামবেন মুন্সি পরিবার এবং জামায়াতের শক্ত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। চাঁদপুরে এনসিপি মুখোমুখি হবেন মমিনুল হক, খোকন ও কামাল উদ্দিনদের মতো প্রার্থীর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এনসিপির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তারা কীভাবে একটি নতুন ধারা উপস্থাপন করতে পারে তার ওপর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “এনসিপি যদি শুধু সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর রাজনীতি করে, তবে তারা টিকবে না। প্রার্থীদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, মাঠপর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তি এবং জনগণের আস্থা অর্জন করাই হবে আসল চ্যালেঞ্জ।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন প্রার্থী হলে জনগণকে আস্থা দিতে হবে। আর যদি কোনো নেতিবাচক ইস্যু ওঠে এবং তার জবাব জনগণ না পায়, তবে প্রচারণা ব্যর্থ হতে পারে। ভোটের রাজনীতি আবেগ নয়, পরিপক্ব কৌশলের জায়গা।”
বিভিন্ন আসনে এনসিপির তরুণ প্রার্থীরা এলাকাভিত্তিক সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, মাঠের বাস্তবতা ও দলীয় কাঠামোর ভিত না থাকলে গণ-আবেগ ভোটে রূপ নিতে নাও পারে।