চরিত্রহননে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়: গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল
সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা প্রতিনিধি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “অপরাধীদের জন্য কোনো অনুকম্পার সুযোগ নেই। তবে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র হনন গণতান্ত্রিক যাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” আজ সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “তারেক রহমানকে নিয়ে নোংরা স্লোগান দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁকে হেয় করা। একটি বিকারগ্রস্ত গোষ্ঠী কুৎসিত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার করছে। অথচ সরকারের এই বিষয়ে উদাসীনতা চরম নিন্দনীয়।”
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, “মিটফোর্ডে সোহাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি। আমরা সরকারের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। কিন্তু এর পরিবর্তে একটি চিহ্নিত মহল বিএনপি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে শালীনতা ও চরিত্রহননের অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “৯ জুলাইয়ের এই পরিকল্পিত ঘটনার ভিডিও ও তথ্যচিত্র ১১ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট কিছু আইডি ও পেজ থেকে আগে থেকেই তৈরি করা ফটোকার্ড ও ভিডিও ক্লিপ ছড়ানো হয়, যা প্রমাণ করে এটি পূর্বপরিকল্পিত অপপ্রচার।”
বিএনপি মহাসচিব কুমিল্লার মুরাদনগরে তিনজনকে খুন, মসজিদের ইমাম হত্যা এবং খুলনায় যুবদল নেতার পায়ের রগ কেটে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এসব হত্যাকাণ্ডেও একই মাত্রার প্রতিবাদ ও প্রচার কীভাবে নিশ্চিত হলো না—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা যেতে পারে।”
ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “পতিত স্বৈরাচার ও ষড়যন্ত্রকারীদের অপচেষ্টা যদি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।”
তিনি ঘোষণা দেন, “সোহাগ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের লক্ষ্যে উপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বিএনপি একটি তথ্যানুসন্ধানী ও তদন্ত কমিটি গঠন করবে।”