সিরিজ জয়েও অপূর্ণতা, ব্যাটিং ধসে হোয়াইটওয়াশ হাতছাড়া বাংলাদেশের
স্পোর্টস ডেস্ক:
শুক্রবার (২৫ জুলাই ২০২৫),সিরিজ জিতে নেওয়ার পরও শেষটা রাঙানো হলো না বাংলাদেশের। পাকিস্তানকে প্রথমবারের মতো টি২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেল শেষ ম্যাচে বাজে পারফরম্যান্সে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭৪ রানে হেরে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করল লিটন কুমার দাসের দল।
ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে পাকিস্তান। স্লো উইকেটের বদলে ব্যাটিংবান্ধব উইকেট পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকা পাকিস্তানিরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে দাপুটে ক্রিকেটে। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও সিয়াম আইয়ুবের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই জমে যায় বড় ইনিংসের ভিত। ফারহান খেলেন ৪১ বলে ৬৩ রানের ঝলমলে ইনিংস, মারেন ৬ চার ও ৫ ছক্কা। সঙ্গ পান হাসান নেওয়াজ ও মোহাম্মদ নেওয়াজের দ্রুত রান থেকে। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে পাকিস্তান তোলে ১৭৮ রান।
১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাটিং অনুশীলনের বদলে যেন ধসের মহড়া চলে। পুরো দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১০৪ রানে। সাইফউদ্দিন ছাড়া কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি। ৩৫ রান করেন তিনিই সর্বোচ্চ। লিটন কুমার দাসের টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচনার কেন্দ্রে বিসিবির সিদ্ধান্তও। যখন হোয়াইটওয়াশের হাতছানি, তখন কেন এমন ব্যাটিং সহায়ক উইকেট তৈরি হলো আর কেন একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, এমন ব্যাটিং ট্র্যাকে বাংলাদেশ এখনও প্রস্তুত নয়। দেশের ধীরগতির উইকেটেই যেন স্বস্তি পায় দলটি। পাকিস্তানের কোচ মাইক হেসনের আগের মন্তব্যও তাই বাস্তব বলে প্রমাণিত হলো। তিনি বলেছিলেন, শুধু স্লো উইকেটে খেলে আন্তর্জাতিক মানে উন্নতি করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পারফরম্যান্স সেটাই ফের মনে করিয়ে দিল।
অন্যদিকে পাকিস্তান হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াতে পারায় স্বস্তিতে ফিরেছে। বিসিবির উইকেট “উপহার” দিয়ে হাসছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এ ম্যাচ দেখিয়ে দিল, শুধু সিরিজ জয় যথেষ্ট নয় — ব্যাটিং কাঠামো ও মানসিকতাতেও বড় পরিবর্তন দরকার বাংলাদেশের ক্রিকেটে।