জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চক্রান্ত চলছে: তারেক রহমান - দিগন্ত জার্নাল

জাতীয় ঐক্য বিনষ্টের চক্রান্ত চলছে: তারেক রহমান

দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:

জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের চক্রান্তের বিরুদ্ধে দেশের কৃষক, শ্রমিক, জনতা, আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ তথা সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্র বানিয়ে রাখতে চেয়েছিল, তাদের ষড়যন্ত্র এখনও থেমে নেই। ‘সংস্কার’ কিংবা ‘স্থানীয় নির্বাচন’ ইস্যু নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংসদ ভবনে বিএনপির বর্ধিত সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “বর্ধিত সভার শুরুতেই আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতে চাই। তিনি একদলীয় বাকশালের অন্ধকারাচ্ছন্ন বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলো জ্বালিয়েছিলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করেছিলেন এবং জনগণের ভালোবাসায় ধন্য বিএনপির হাতে গণতন্ত্রের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন, স্বজন হারিয়েছেন এবং বিএনপিকে জনগণের সবচেয়ে বিশ্বস্ত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রামে জীবন দেওয়া সাহসী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি।”

তারেক রহমান বলেন, “হাজারো শহিদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতাপ্রিয় জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর গণতন্ত্রকামী মানুষের সামনে বাংলাদেশ পুনর্গঠনের এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই সম্ভাবনা নস্যাৎ করতে ইতোমধ্যে নানারকম ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সুকৌশলে রক্তপিচ্ছিল রাজপথে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য ও জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিএনপির কাছে সংস্কারের ধারণা নতুন কিছু নয়। সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, বিএনপি সবসময় জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে এবং করে যাবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “তবে ষড়যন্ত্রের পথ ধরে পলাতক স্বৈরাচার রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর সংস্কারের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাংলাদেশকে চিরতরে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে গত দেড় দশকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংস করা হয়েছে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক করে তোলা হয়েছে।”

an adbox will go here