আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক, বাড়ছে সহিংসতা
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
দেশজুড়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘবদ্ধ কিছু মানুষ বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা শিকার হচ্ছেন সহিংসতার। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকটের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা গেছে, কারও বিরুদ্ধে সন্দেহ দেখা দিলেই একদল মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। কখনো চুরি-ডাকাতির সন্দেহে, কখনো বা রাজনৈতিক কারণে কিংবা সামাজিক কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। কোথাও কাউকে মারধর করা, অপমানজনক আচরণ করা, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এ ধরনের ঘটনায় বেশ কয়েকজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ প্রবণতা রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ অপরাধ করলে তাকে প্রচলিত আইনের আওতায় আনতে হবে। কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। পুলিশ যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিতকরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহায়তা প্রয়োজন, পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
— দিগন্ত জার্নাল | সাম্যের আহ্বানে