কিছু উপদেষ্টাদের বিএনপির নাম শুনলেই গায়ে জ্বলা ধরে: আমিনুল হক
দিগন্ত জার্নাল ডেস্ক:
বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা বিএনপির নাম শুনলেই অথবা নির্বাচনের কথা বললেই তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। তারা কেন জানি নির্বাচনকে মেনে নিতে পারে না।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন রোববার দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশন উত্তর ইবরাহীমপুর দরুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে ঢাকা মহানগর উত্তর কাফরুল থানা বিএনপির কর্মিসভা ও রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফার কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে।
আমিনুল হক বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলন সংগ্রাম করছে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু কিছু কিছু উপদেষ্টা বলছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং স্বৈরাচারের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে যাবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচারের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। গত ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি, আর জনগণ এখন ভোট দিতে চায়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বৈরাচারের বিচার করতে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার দরকার।”
আমিনুল হক সতর্ক করে বলেন, “স্বৈরাচারের বিচারের নামে জাতীয় নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে, জনগণ তা মেনে নেবে না। বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এলে, আমরা একটি সুস্থ ধারার রাজনীতির পরিবেশ তৈরি করব এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করব।”
তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অরাজকতা, খুন, ধর্ষণ ও মব সন্ত্রাসের কারণে জনগণের নিরাপত্তা দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। এর দায় অন্তর্বর্তী সরকারকেই নিতে হবে।”
বিএনপির এই নেতা সোনার বাংলাদেশ গড়তে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা এখনো দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করে জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে এবং মব জাস্টিসের নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এটি কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।”
এ সময় তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য ৩১ দফা রূপরেখার কথা উল্লেখ করেন এবং সাধারণ জনগণের প্রতি আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।